kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

জানা-অজানা

পণ

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের দেনাপাওনা গল্পে ‘পণ’-এর কথা উল্লেখ আছে]

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পণ

পণ বা যৌতুক হলো বিয়ে উপলক্ষে কন্যা বা কন্যার পরিবারের পক্ষ থেকে বরকে দেওয়া সম্পদ।

পণ শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে। ইংরেজিতে একে বলে ডাওরি। একসময় প্রাচীন হিন্দুসমাজে বরপক্ষ কনেপক্ষকে পণ দিত। কনেপক্ষ বিয়ের মাধ্যমে তাদের একজন সদস্য হারাচ্ছে। ক্ষতিপূরণের জন্য বরপক্ষ কনের পরিবারকে বিভিন্ন সম্পদ দিত। একে বলা হতো কনেপণ। কালক্রমে এটি বরপণের রূপ ধারণ করে।

হিন্দু আইনে নারীরা পুরুষদের মতো তার মা-বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতো না। তাই বিয়েতে মেয়ের সম্পত্তি হিসেবে পণ দেওয়া হতো। কালক্রমে তা বাধ্যতামূলক বিয়ের পণ হিসেবে আবির্ভূত হয়, যা একসময় কনেপক্ষের জন্য এক কষ্টকর রীতি হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধক আইন অনুসারে ‘প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যদি কোনো পক্ষ অপর পক্ষকে বিয়ের আগে-পরে-চলাকালীন যেকোনো সময় যেকোনো সম্পদ বা মূল্যবান জামানত হস্তান্তর করে বা করতে সম্মত হয়, সেটাই পণ বলে বিবেচ্য হবে।’ তবে বিয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নন এমন কেউ ৫০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যমানের কোনো বস্তু উপহার হিসেবে কোনো পক্ষকে দিলে তা পণ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুসারে বিয়ে স্থির থাকার শর্ত হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ দেওয়া হবে—এই মর্মে কোনো চুক্তি থাকলে তাকে পণ বলে গণ্য করা হবে। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিয়ের মোহরানা যৌতুক হিসেবে বিবেচিত হবে না।

বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে যৌতুক দেওয়া বা নেওয়া উভয়ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান আছে।        ► ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা