kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

জানা-অজানা

রসিকতা

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের ফুলের বিবাহ গল্পে ‘রসিকতা’র কথা উল্লেখ আছে]

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রসিকতা

গোপাল ভাঁড়

রসিকতা হলো কৌতুক বা রঙ্গরসের কথা। কোনো বক্তব্য, উচ্চারণ বা অঙ্গভঙ্গি, যা মানুষের মনে হাস্যরসের সঞ্চার করে তা-ই রসিকতা। যারা রসিকতা করে তাদের আমরা রসিক মানুষ বলি। রসিকতা সংলাপ দিয়ে শুরু হয়ে গল্পে রূপ নেয়। অবশেষে পাঞ্চ লাইনে শেষ হয়। আর এই পাঞ্চ লাইন শুনেই শ্রোতা বুঝতে পারে যে উপস্থাপিত কথাগুলোর দ্বিতীয় কোনো অর্থ আছে। ব্যঙ্গ এক ধরনের রসিকতা, যার উদ্দেশ্য অবমাননা করা।

ভাষাবিদ রবার্ট হেটজরনের মতে, ‘কৌতুক বা রসিকতা হলো ক্ষুদ্র আকারের মৌখিক সাহিত্যের রসাত্মক অংশ, যেখানে শেষ বাক্যে হাস্যকর পরিণতি পায়।’ যদিও রসিকতা মৌখিক সাহিত্য, তবু রসিকতা কৌতুক আকারে ছাপার অক্ষরে বা ইন্টারনেটে লিখিত আকারে পাওয়া যায়।

একটি ভালো কৌতুক হলো স্বল্পপরিসরে প্রকাশিত কতগুলো দৃশ্য, যার শেষ মুহূর্ত শ্রোতাকে ও দর্শককে হাস্যরসে দ্রবীভূত করে। একটি রসিকতার উদাহরণ দেওয়া যাক।

এক ডাক্তারের ভিজিটের নিয়ম হলো—প্রথমবার ৫০০, দ্বিতীয়বার ৪০০ আর তৃতীয়বার ৩০০ টাকা।

এক লোক চালাকি করে ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলল, ‘এবার আমি তৃতীয়বার আসলাম।’

ডাক্তার চালাকি ধরতে পেরেছিলেন। জিহ্বা দেখে বললেন, ‘৩০০ টাকা দেন আর ওষুধ আগেরটাই খাবেন।’

ধাঁধা কৌতুকের ক্ষেত্রে ভাবধারা পরোক্ষভাবে বোঝা যায়। সাধারণত মৌখিক কৌতুকগুলো সময়ের সঙ্গে বেনামে বয়ে চলে। রসিকতা ব্যক্তিগত বা জনসমাগমে বলা হয়ে থাকে। কথোপকথনের মধ্যেই সাবলীলভাবে রসিকতা করা হয়ে থাকে। একটি রসিকতায় শারীরিক অঙ্গসঞ্চালন হাসানোর জন্য ততটাই দরকার, যতটা দরকার হয় পাঞ্চ লাইনের। রসিকতায় হাস্যকর কথা থাকে, আর কৌতুক-অভিনেতা বা রসিক মানুষটি তার অঙ্গভঙ্গি ও কথার মাধ্যমে সেটাকেই হাস্যকর করে তোলে। গোপাল ভাঁড়, মোল্লা নাসিরুদ্দিন, বীরবল, তেনালি রামা প্রভৃতি রসিক ব্যক্তি তাঁদের রসিকতার কারণে সবার কাছে সুপরিচিত এবং তাঁদের রসিকতার গল্প এখন সবার মুখে মুখে।

                           ► ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা