kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ইউক্যালিপটাস

[একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের দ্বাদশ অধ্যায়ে ইউক্যালিপটাসগাছের কথা উল্লেখ আছে]

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইউক্যালিপটাস

পরিবেশের বন্ধু গাছ। বন্ধু মানুষেরও। কিন্তু পৃথিবীতে এমন কিছু গাছ আছে, যা মানুষের খুব একটা বন্ধু হতে পারেনি। আর এ রকমই এক প্রজাতির গাছ হচ্ছে ইউক্যালিপটাস। এটি মিরট্যাসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এর কাণ্ড সোজা, মসৃণ ও দীর্ঘ। ১২০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বিশ্বে সাত শতাধিক প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে সহজে পাওয়া যায় অল্পসংখ্যক প্রজাতি। ধারণা করা হয়, ৩৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন বছর আগে এ গাছটির উৎপত্তি। আদিবাস অস্ট্রেলিয়ায়। ইউক্যালিপটাস দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় ১৭৭০ সালে স্যার জোসেফ ব্যাংকস নামের এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী সারা বিশ্বের মানুষের সামনে গাছটি তুলে ধরেন। তখন তিনি গাছটির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরে গাছটি সম্পর্কে পাওয়া যায় ভিন্ন তথ্য। এটি অন্যান্য প্রজাতির গাছের জন্য খুবই ক্ষতিকর। গাছটি আশপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার এবং ভূগর্ভের প্রায় ৫০ ফুট নিচের পানি শোষণ করে আকাশে উড়িয়ে দেয়। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই পানি শোষণ করে বাতাসে ছাড়ে। ফলে মাটিতে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ কারণে আশপাশে থাকা অন্যান্য প্রজাতির গাছ পানির অভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। এই গাছের কাঠের গুণাগুণ তেমন ভালো নয়। এ গাছের তেল দাহ্য হয়। ফলে যেখানে ইউক্যালিপটাস চাষ করা হয়, সেখানে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। এ গাছ মাটিকে শুষ্ক করে; ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায়। তবে ইউক্যালিপটাস পরিবেশের জন্য শুধু ক্ষতিকরই নয়, কিছু উপকারী দিকও রয়েছে এর। যেমন—এ গাছ ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতে কাজে লাগে, এর তেল সর্দি নিরাময়ে উপকারী। ভূমিধস রোধেও গাছটির সুনাম রয়েছে। পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও রাখছে ভূমিকা। তাই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বনায়নে এ গাছটি দেখা যায়। এ গাছের কাঠ বেশ মজবুত হয়। জাহাজ নির্মাণ, কাগজ তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে গাছটি ব্যবহৃত হয়।      আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা