kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

নবম-দশম শ্রেণি

বাংলা দ্বিতীয় পত্র

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলা দ্বিতীয় পত্র

প্রতিবেদন 

মনে করো, তুমি জাওয়াদ। কালের কণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাদ্যে ভেজালের প্রতিকার সম্পর্কে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রণয়ন করো।

খাদ্যে ভেজাল : জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা

জাওয়াদ, স্টাফ রিপোর্টার, কালের কণ্ঠ, ঢাকা।

২৬ আগস্ট, সোমবার, ২০১৯

বর্তমানে বাংলাদেশবাসীর জীবনে বহুবিধ সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, সারা দেশে ৫০ শতাংশ এবং ঢাকায় ৭০ শতাংশ খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের মিশ্রণ রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, চিনি, লবণ, চাল, আটা, ময়দা, তেল, ঘি, মিষ্টি, ওষুধ—সব কিছুতেই ভেজাল। এমনকি মিনারাল ওয়াটার নামে বোতলবন্দি ‘বিশুদ্ধ’ পানিতেও ভেজাল। সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে এসব নকল ও ভেজাল খাদ্যসামগ্রীই ‘বিশুদ্ধ’ বা ‘খাঁটি’ লেবেল লাগিয়ে অনায়াসে বিক্রি হচ্ছে। মাঝেমধ্যে বাজারগুলোতে ভেজালবিরোধী পরিদর্শন নাগরিকদের মনকে হালকা স্বস্তি দিলেও সেটির কার্যকারিতা সব সময় চোখে পড়ে না, বিশেষ করে শিশুখাদ্য ও ওষুধে ভেজালের ফলে জনস্বাস্থ্য আজ হুমকির মুখে পড়েছে। এ থেকে পরিত্রাণ না পেলে ‘খাঁটি’ শব্দটি খাদ্যদ্রব্য থেকে উঠেই যাবে।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রিপোর্ট অনুযায়ী ৪৩টি খাদ্যপণ্যের ৫৩৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ২১১৭ টিতে ভয়াবহ ভেজাল পাওয়া গেছে। খাদ্যে ভেজাল দিতে যেসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে মনোসোডিয়াম, ইথোফেন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন, চক পাউডার, ইউরিয়া, মার্জারিন, পশুর চর্বি, খনিজ তেল, রেড়ির গুঁড়া, ন্যাপথলিন, ইটের গুঁড়া, কাঠের গুঁড়া, ডিডিটি, সাইক্লোমেট ইত্যাদি। এসব ভেজাল মেশানো খাবার সবার জন্য ক্ষতিকর হলেও গর্ভবতী মা ও নবজাত শিশুর জন্য রীতিমতো ভয়ংকর।

ভেজালের আওতার মধ্যে প্রতিনিয়তই নিত্যনতুন ‘আইটেম’ যুক্ত হচ্ছে। ভেজাল দেওয়ার প্রক্রিয়ায় খাদ্যশস্যে বহির্জাত পদার্থ সরাসরি যোগ করা হয়। যেমন—ওজন বৃদ্ধির জন্য বালু, কাঁকর, ভালো শস্যের সঙ্গে কীটপতঙ্গ আক্রান্ত বা বিনষ্ট শস্য ইত্যাদি। ঘি-এর সঙ্গে পশু চর্বি, তিল বা নারকেল তেলের সঙ্গে তুলাবীজ, সরিষার সঙ্গে শিয়ালকাঁটার বীজ, সয়াবিনের সঙ্গে পাম তেল মেশানো হয়। গুঁড়া দুধেও ময়দা, সুজি ও অন্যান্য দ্রব্য মেশানো হয়। ব্যবহৃত চা পাতা, কাঠের গুঁড়া ও শুকনো পাতার গুঁড়া দিয়ে চায়ে ভেজাল দেওয়া হয়। মসলার মধ্যে লঙ্কা বা হলুদের গুঁড়ায় সিসাজাতীয় রঞ্জক পদার্থ মিশিয়ে রঙের উজ্জ্বলতা বাড়ানো হয়। কোমলপানীয় তৈরিতে তরল গ্লুুকোজ, চিনির সিরাপের পরিবর্তে প্রায়ই কার্বোক্সি মিথাইল সেলুলোজ মেশানো হয়। বিভিন্ন ফলের রসের নামে কৃত্রিম ও নিষিদ্ধ দ্রব্য ব্যবহার করে নকল রস তৈরি করা হয়।

প্রায় সব ক্ষেত্রেই সচেতনভাবে এই নিন্দনীয় অপকর্মটি এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও বিক্রেতা করে থাকে। এদের শক্ত হাতে দমন করতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে।

ক) বাংলাদেশে ‘বিশুদ্ধ খাদ্য বিল ২০০৫’ আইনের আওতায় সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা জরিমানা ও তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডের যে বিধান আছে তা কার্যকর করতে হবে।

খ) বিএসটিআইকে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে।

গ) ভেজালবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বাজার তদারকির ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ঘ) প্রচারমাধ্যমে খাদ্যদ্রব্যের ভেজাল প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।

ঙ) সর্বোপরি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যের প্যাকেটের গায়ে কম্পানির লাইসেন্স নম্বর, ট্রেড মার্ক, পণ্যের উৎপাদন সময়সহ সব কৌশল ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ক্রেতাসাধারণ সহজেই খাদ্যদ্রব্যের ভেজাল বুঝতে পারে।

আশা করা যায়, উপর্যুক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে খাদ্যদ্রব্য ভেজালমুক্ত হবে ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা পাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা