kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

জানা-অজানা

জলোচ্ছ্বাস

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে ‘জলোচ্ছ্বাসে’র কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জলোচ্ছ্বাস

জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে এক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যখন সমুদ্রের পানি ফুলে উঁচু হয়ে উপকূলে আঘাত হানে তখন আমরা তাকে জলোচ্ছ্বাস বলি। সাধারণত ঘূর্ণিঝড় ও সুনামির কারণে জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। সুনামির কারণে জলোচ্ছ্বাস হলে সমুদ্রের পানি অনেকটাই উঁচু হয়ে উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ ধরনের জলোচ্ছ্বাসে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। আবার সংকীর্ণ ও অগভীর নদীপথ অথবা মোহনায় প্রবল জোয়ারের কারণে সৃষ্ট তরঙ্গ থেকেও জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। স্রোতের বিপরীতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালায় বলে জলোচ্ছ্বাসের পানি প্রাচীরের মতো উঁচু হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে জলোচ্ছ্বাস, বান, জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণি জলোচ্ছ্বাস এবং ঝড়ো জলোচ্ছ্বাস প্রায়ই কাছাকাছি বলে গণ্য করা হয়। এ দেশে এপ্রিল অথবা মে মাসে এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জলোচ্ছ্বাস হয়। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতার সঙ্গে ঘূর্ণি জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা সরাসরি সম্পর্কিত। বাতাসের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতাও বাড়তে থাকে। ঘূর্ণি জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে অমাবস্যা অথবা পূর্ণিমা তিথির সংযোগ ঘটলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে সৃষ্ট প্রবল জোয়ারের ফলে জলোচ্ছ্বাসের পানির উচ্চতা অনেক বেশি হয় এবং ব্যাপক বন্যা সংঘটিত হয়।

বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়গুলোর সঙ্গে আসা ঝড়ো জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা সাধারণত তিন থেকে ছয় মিটার হয়ে থাকে। ১৯৭০ সালের ১২ ও ১৩ নভেম্বর মেঘনা মোহনায় আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণি জলোচ্ছ্বাসের পানির উচ্চতা ৩.০৫ থেকে ১০.৬ মিটার পর্যন্ত হয়েছিল। সে সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২২ কিলোমিটার এবং প্রায় তিন লাখ মানুষ এ জলোচ্ছ্বাসে নিহত হয়। জলোচ্ছ্বাসের কারণে সাম্প্র্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। এদের মধ্যে ফনি, আইলা, সিডর, বিজলি, তিতলি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।   

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা