kalerkantho

জানা-অজানা

পরমাণু

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে ‘পরমাণু’র কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পরমাণু

মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যতীত অন্যান্য পদার্থের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। সব কঠিন, তরল, গ্যাস ও আয়নের গঠনের মূলে রয়েছে এই আধানগ্রস্ত পরমাণু। সাধারণত একটি মৌলিক পদার্থ একই ধরনের অসংখ্য পরমাণু দিয়ে গঠিত এবং যৌগিক পদার্থ বিভিন্ন ধরনের পরমাণু দিয়ে গঠিত। যেমন—অক্সিজেনের পরমাণু O, হাইড্রোজেনের পরমাণু H.

খুবই ক্ষুদ্র আকৃতির হয় পরমাণু। সাধারণত এর দৈর্ঘ্য ১০০ পিকোমিটার, যা একটি চুলের এক লাখ ভাগের এক ভাগ।

খ্রিস্টের জন্মের ৬০০ বছর আগে ভারতীয় দার্শনিক কনাদ পরমাণু সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি বলেন, সব পদার্থই ক্ষুদ্র ও অবিভাজ্য কণিকা দ্বারা তৈরি। খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে ডেমোক্রিটাস পদার্থের এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন ‘অ্যাটমস’, যার আক্ষরিক অর্থ ‘অবিভাজ্য’। ডেমোক্রিটাস বিশ্বাস করতেন, পরমাণুগুলো সুষম, শক্ত, অসংকোচনীয়। এদের ধ্বংস ও ভাগ করা যায় না; কিন্তু পরবর্তী সময়ে পদার্থবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে আবিষ্কার করেন যে পরমাণুকেও ভাগ করা যায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে প্রমাণিত হয় পরমাণু তিনটি উপাদান দিয়ে গঠিত।

যেসব সূক্ষ্ম কণিকা দিয়ে পরমাণু গঠিত, তাদের মৌলিক কণিকা বলে। এরা হচ্ছে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। এ তিনটি কণিকা বিভিন্ন সংখ্যায় একত্র হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু গঠন করে। ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন এবং আধানহীন নিউট্রন একত্র হয়ে নিউক্লিয়াস গঠন করে পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। আর এদের ঘিরে সৌরজগতের সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলোর ঘোরার মতো ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন ঘুরছে। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে স্যার জে জে থমসন সর্বপ্রথম ইলেকট্রন, ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড প্রোটন এবং ১৯৩২ সালে জেমস স্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনকে যথাক্রমে e, p ও n দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

        

মন্তব্য