kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

জানা-অজানা

ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যানের কথা উল্লেখ আছে]

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান

প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার একটি শহর ব্যাবিলন। এই শহরের প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত বাগান বা ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান। খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ সালে সম্রাট নেবুচাদনেজার তাঁর স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এটি নির্মাণ করেন। নেবুচাদনেজারের স্ত্রী ছিলেন মিডিয়ান সম্রাটের কন্যা। মিডিয়ান সম্রাট নিনেভা রাজ্য দখল করতে নেবুচাদনেজারকে সহযোগিতা করেছিলেন। তখন মিডিয়ান রাজকন্যার সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে নেবুচাদনেজার তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সম্রাজ্ঞীর তেমন ভালো লাগত না, কারণ ব্যাবিলন হলো সমতল ভূমি আর মিডিয়ান ছিল সবুজ পাহাড়-পর্বতের দেশ। সম্রাট সম্রাজ্ঞীর মনের কষ্ট বুঝতে পেরে প্রাসাদের ওপরই তৈরি করলেন এক সুন্দর পুষ্প বাগান। প্রথমে নির্মাণ করা হয় ৮০০ বর্গফুটের বিশাল এক ভিত। ভিতটিকে স্থাপন করা হয় সম্রাটের খাস উপাসনালয়ের সুবিস্তৃত ছাদে। মাটি থেকে এর উচ্চতা দাঁড়ায় প্রায় ৮০ ফুট। এরপর চার হাজার শ্রমিক রাত-দিন পরিশ্রম করে তৈরি করে পুষ্প বাগান। বাগান পরিচর্যা করতে রাখা হয় আরো এক হাজার ৫০ জন মালি। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাঁচ-ছয় হাজার ধরনের গাছ এনে লাগানো হয় বাগানে। মোটা পেঁচানো নলের সাহায্যে বাগানের সুউচ্চ ধাপগুলোতে নদী থেকে পানি উঠানো হয়। ৫১৪ খ্রিস্টাব্দে পার্শ্ববর্তী পারস্য রাজ্যের সঙ্গে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এই সুন্দর বাগানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। উদ্যানটি প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যেরও একটি।

♦ আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য