kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

জেএসসি প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সুলতানা নুসরত জাহান, সিনিয়র শিক্ষক, সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মালিবাগ শাখা, ঢাকা

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৭ মিনিটে



বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

মডেল টেস্ট (পূর্ণমান-১০০)

বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (মান ৩০)

১।   কোন সরকারে জনগণকে রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে গণ্য করা হয়?

     ক) একনায়কতন্ত্রে     খ) রাজতন্ত্রে  

     গ) গণতন্ত্রে  

     ঘ) অভিজাততন্ত্রে

২।   ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ কবে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি প্রতিষ্ঠা করেন?

     ক) ১২৩৮ খ্রিস্টাব্দে

     খ) ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে  

     গ) ১৪৩৮ খ্রিস্টাব্দে

     ঘ) ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে

৩।   ভাস্কো দা গামা ভারতের কোথায় এসে পৌঁছেন?

     ক) কলকাতা  খ) কালিকট   গ) চট্টগ্রাম   ঘ) মুম্বাই

৪।   ইংরেজদের হাতে বাংলা পতনের প্রধান কারণ কোনটি?

     ক) পলাশীর যুদ্ধ     খ) স্বাধীনতার যুদ্ধ   

     গ) মহীশূরের যুদ্ধ    ঘ) সিপাহি বিদ্রোহ

৫।   ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি কত সালে বাংলায় আগমন করে?

     ক) ১৬০০ সালে     খ) ১৬১০ সালে     গ) ১৬২০ সালে     ঘ) ১৬৩০ সালে

৬।   রবার্ট ক্লাইভ যেভাবে তাঁর শাসনক্ষমতা ব্যবহার করছিল তা হলো—

     i. দ্বৈত শাসন

     ii. ক্ষমতাহীন নবাবি

     iii. প্রত্যক্ষ শাসন

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক) i, ii খ) ii, iii

     গ) i, iii     ঘ) i, ii ও iii

     অনুচ্ছেদটি পড়ে ৮ ও ৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :

     ইতিহাসের পাতা থেকে মালিহা জানতে পারল যে ভারতবর্ষে প্রথম পর্যায়ে ব্রিটিশ শাসন তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে ছিল। ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ভারতবর্ষ শাসিত হতো একটি নীতির মাধ্যমে। তারা তাদের শাসনকে দীর্ঘায়িত করার জন্য সর্বক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

৭।   অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১৭৫৭-১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ভারতবর্ষ কাদের অধীনে ছিল?

     ক) চায়নিজ কম্পানি       

     খ) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি      

     গ) ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি

     ঘ) ভারতীয় কম্পানি

৮।   ওই সময়ে গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো—

     i. পরিবার পরিকল্পনা       

     ii. ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা    

     iii. শিক্ষা বিস্তার

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক) i, ii      খ) ii, iii          গ) i, iii     ঘ) i, ii ও iii

৯।   একজন ব্যক্তির সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—

     i. তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি       

     ii. গণমাধ্যম 

     iii. আন্তর্জাতিক সংস্থা

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক) i, ii      খ) ii, iii          গ) i, iii     ঘ) i, ii ও iii

১০। বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনটি বিপ্লব এনেছে?

     ক) ই-বুক    খ) ই-কমার্স

     গ) ই-মেইল  ঘ) নোট বুক

১১। মোট জাতীয় উৎপাদনে কোনটির ভূমিকা বেশি?

     ক) মৎস্যশিল্প খ) কৃষি          

     গ) শিল্প     ঘ) স্বাস্থ্যসেবা

১২। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের উৎসগুলো হলো—

     i. শারীরিক শ্রম      ii. ব্যাংক ও বীমা     iii. শিল্প-কারখানা

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক) i, ii      খ) ii, iii          গ) i, iii     ঘ) i, ii ও iii

১৩। বাংলাদেশের সংবিধান কোন ধরনের?

     ক) লিখিত সংবিধান

     খ) অলিখিত সংবিধান 

     গ) মৌলিক সংবিধান 

     ঘ) কেন্দ্রভিত্তিক সংবিধান

১৪। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের বৃহৎ অংশ আসে—

     i. বৈদেশিক সাহায্য থেকে         

     ii. বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে 

     iii. অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা থেকে

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক) i, ii      খ) ii, iii          গ) i, iii     ঘ) i, ii ও iii

     অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৬ ও ১৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :

     ‘মিসেস ক’ একজন সংসদ সদস্য; কিন্তু তিনি সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি সংসদ অধিবেশনে সরকারি চাকরিতে মহিলাদের কোটা বৃদ্ধির পক্ষে একটি বিল উত্থাপন করেন।

১৫। ‘মিসেস ক’কে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেন কারা?

     ক) জনগণ    খ) সংসদ সদস্য    গ) কেবিনেট    ঘ) উপজেলা-জেলা

১৬। ‘মিসেস ক’ একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তার কারণ হচ্ছে—

     i. মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য    ii. সংসদ সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য

     iii. মহিলাদের আসন সংরক্ষণের জন্য

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক) i, ii      খ) ii, iii          গ) i, iii     ঘ) i, ii ও iii

১৭। রাষ্ট্র কোন ধরনের সংগঠন—

     ক) সামাজিক  খ) অর্থনৈতিক

     গ) পেশাভিত্তিক ঘ) রাজনৈতিক

১৮। রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি কোনটি?

     ক) সার্বভৌমত্ব খ) সরকার        

     গ) ভূমি    

     ঘ) রাজনৈতিক দল

১৯। সেন শাসকরা কোন অঞ্চল থেকে বাংলায় আসেন?

     ক) উত্তর ভারত      খ) পূর্ব ভারত

     গ) দক্ষিণ ভারত      ঘ) পশ্চিম ভারত

২০। সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় একটি মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য হলো—

     i. শোষণমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা

     ii. সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা        

     iii. সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা কায়েম

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক) i, ii      খ) ii, iii          গ) i, iii     ঘ) i, ii ও iii

২১। বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে এরই মধ্যে মরুকরণ শুরু হয়ে গেছে?

     ক) দক্ষিণাঞ্চলে খ) পূর্বাঞ্চলে 

     গ) পশ্চিমাঞ্চলে ঘ) উত্তরাঞ্চলে

২২।  ২০১১ সালে জাপানের উত্তর-পূর্ব এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ সুনামিতে ভূকম্পনের মাত্রা কত ছিল?

     ক) ৭.৯     খ) ৮.২          গ) ৮.৭     ঘ) ৮.৯

২৩।  দুর্যোগ প্রস্তুতির প্রয়োজনের সঙ্গে যা সম্পর্কিত—

     i. প্রাণহানি রোধ করা      

     ii. ক্ষয়ক্ষতি কমানো

     iii. দুঃখ-দুর্দশা কমানো

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক) i, ii      খ) ii, iii          গ) i, iii     ঘ) i, ii ও iii

২৪। গ্রিনহাউস গ্যাস হলো—

     i. নাইট্রোজেন      

     ii. নাইট্রাস অক্সাইড

     iii. মিথেন

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক) i, ii      খ) ii, iii          গ) i, iii     ঘ) i, ii ও iii

২৫। কোন দুর্যোগের আগে পুকুর খনন করা উচিত?

     ক) নদীভাঙন  খ) ভূমিকম্প  

     গ) টর্নেডো   ঘ) খরা

২৬। যৌথ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?

     ক) মেজর জেনারেল জ্যাকব       

     খ) লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা

     গ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার     ঘ) মেজর জেনারেল নাগরা

২৭। সীমিত সম্পদ থেকে অনেক কিছু তৈরি করার জন্য যা করতে হবে—

     ক) শিল্পায়ন 

     খ) পুঁজি বিনিয়োগ   

     গ) বিদেশি বিনিয়োগ

     ঘ) সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন

২৮। বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হওয়ার সম্ভাবনা ঘটেছে কেন?

     ক) দ্রুত শিল্পায়নের জন্য    

     খ) জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ায়   

     গ) ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়

     ঘ) শেয়ারবাজারের প্রতিযোগিতা বাড়ায়

২৯। মুক্তিযুদ্ধকালীন উপদেষ্টা পরিষদ যে কারণে গঠিত হয়েছিল—

     ক) মুক্তিবাহিনীকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য

     খ) বিভিন্ন সেক্টরের সমন্বয়ের জন্য   

     গ) জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য

     ঘ) মুক্তিযোদ্ধাদের উপদেশ দেওয়ার জন্য

৩০।  ইংরেজ শাসকদের দ্বারা বাংলাকে বিভক্ত করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে স্বদেশি চেতনার সৃষ্টি হয় কবে?

     ক) ১৯০০ সালে     খ) ১৯০৫ সালে    

     গ) ১৯১০ সালে     ঘ) ১৯১১ সালে

 

উত্তর

১.গ ২.খ ৩.খ ৪.ক ৫.ঘ ৬.ক ৭.খ ৮.খ ৯.খ ১০.গ ১১.খ ১২.গ ১৩.ক ১৪.গ ১৫.খ ১৬.খ ১৭.ঘ ১৮.খ ১৯.গ ২০.ক ২১.ঘ ২২.ঘ ২৩.ঘ ২৪.গ ২৫.ঘ ২৬.খ ২৭.ঘ ২৮.ক ২৯.গ ৩০.ক।

 

[যেকোনো সাতটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।]

১। মিজান ও রিয়াজ দুজন সহপাঠী। তারা দুজন জাতিসংঘ সম্পর্কে আলোচনা করছিল। মিজান বলে, জাতিসংঘের এমন একটি সংস্থা রয়েছে, যেটি আমাদের দেশে খাদ্য ও কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রিয়াজ বলে, এর একটি বিভাগ বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বের জনসংখ্যা সম্পর্কে জ্ঞান দানের পাশাপাশি এ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

ক) UNFPA কিসের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে?       ১

খ) আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে কী বোঝায়?     ২

গ) মিজান তার দেশের খাদ্য ও কৃষি উন্নয়নে যে সংস্থার কথা বলেছে সে সংস্থা সম্পর্কে আলোচনা করো।      ৩

ঘ) বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বের জনসংখ্যা সম্পর্কিত কার্যক্রমে রিয়াজের বর্ণিত সংস্থার ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।        ৪

২। ফিরোজ তার দাদার কাছ থেকে ১৬৮০-৮৩ সালের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা শুনে বুঝতে পারে এ দেশে একসময় বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য করত। তারা তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করত। তবে এতে একটি দেশের ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হতো।

ক) মোগল সম্রাট আকবরের সেনাপতি কে ছিলেন?          ১

খ) পুঁজি পাচার বলতে কী বোঝায়?        ২

গ) উল্লিখিত সময়ে লাভবানকৃত দেশটির বাণিজ্য বিস্তারের কারণ ব্যাখ্যা করো। ৩

ঘ) উক্ত বণিক শ্রেণির রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পেছনে রয়েছে বাংলার শাসকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চক্রান্ত—বিশ্লেষণ করো।      ৪

৩। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পরে মেহেরপুরে ১০ এপ্রিল ১৯৭১ একটি সরকার গঠন করা হয়। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠন করে।

ক) মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ঢাকার গেরিলা দল কী নামে পরিচিত ছিল?           ১

খ) ১৯৭১ সালে যৌথ কমান্ড গঠন হয়েছিল কেন?         ২

গ) উদ্দীপকে উক্ত সরকারের গঠন বর্ণনা করো। ৩

ঘ) ‘উক্ত সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল’—বিশ্লেষণ করো।       ৪

৪। পাহাড়ের নিচে ঘর বেঁধে আরো অনেকের সঙ্গে বসবাস করত সবুজ মিয়া। গত বর্ষায় পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ভেঙে পড়ে। সবুজ মিয়া কোনো মতে বেঁচে গেলেও অনেকের প্রাণহানি ঘটে।

ক) বন উজারকরণ কী?           ১

খ) আশ্রয়কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।  ২

গ) উদ্দীপকে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।         ৩

ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সবুজ মিয়াদের অসচেতনতাই দায়ী—মূল্যায়ন করো।      ৪

৫।

ক) GNP-এর পূর্ণরূপ লেখো।        ১

খ) দারিদ্রের দুষ্টচক্রের ধারণা ব্যাখ্যা করো।   ২

গ) ২ নম্বর স্তম্ভ নির্দেশক খাতটি ব্যাখ্যা করো। ৩

ঘ) ১ নম্বর খাতের অবদানকে কিভাবে ৩ নম্বর খাতের অবদানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়?    ৪

৬।

ক) বাংলাদেশের আইন সভার নাম কী? ১

খ) যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে কী বোঝায়?    ২

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকার ব্যবস্থার মধ্যে কোনটি বাংলাদেশে প্রযোজ্য? ব্যাখ্যা করো। ৩

ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত সরকার ব্যবস্থা দুটিতে তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণ করো।          ৪

৭। ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর পৃথিবী তার ৭০০ কোটি জনসংখ্যাকে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বলেন, ২০৫০ সালে এ পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ৭৩০ কোটি। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশই তাদের এই বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করেছে। এর ফলে সেসব দেশ উত্তরোত্তর সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠছে।

ক) জনসংখ্যানীতি কী?

খ) কমিউনিটিভিত্তিক পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প বলতে কী বোঝো?          ২

গ) অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশ কিভাবে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারে?

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত অন্য দেশগুলো জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করে কিভাবে সমৃদ্ধিশালী হচ্ছে—সে সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।       ৪

৮। রাসেল কয়েকটি শিল্প-কারখানা পরিদর্শন করার জন্য নারায়ণগঞ্জ গিয়েছে। একটি কারখানায় সে কার্পেট, ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী দেখে। অন্য একটি কারখানায় সে অনেক নারীকে কাজ করতে দেখে। সে জানতে পারে এ কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ক) অর্থনৈতিক কাজ কাকে বলে?          ১

খ) শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার—উক্তটি ব্যাখ্যা করো।          ২

গ) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পগুলোর ভূমিকা আলোচনা করো।         ৩

ঘ) তুমি কি মনে করো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ওই শিল্পগুলোই যথেষ্ট? যুক্তি দেখাও।          ৪

৯।

ক) রাখাইনদের আদি বাস কোথায়?       ১

খ) বাংলাদেশ কিভাবে একটি বহু সংস্কৃতির দেশে পরিণত হয়েছে?           ২

গ) উদ্দীপকে ‘খ’ ছক দ্বারা কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে? এদের ধর্মীয় জীবন ব্যাখ্যা করো।       ৩

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘ক’ ও ‘খ’ ছক দ্বারা যে দুটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে, তাদের সাংস্কৃতিক জীবনের তুলনা করো।       ৪

১০। তাসফিক তার এলাকায় ভালো বিতার্কিক হিসেবে পরিচিত। এলাকার ছেলেদের সঙ্গে সে ফুটবল খেলায় এগিয়ে আছে। অথচ রাত জেগে টিভি দেখার নেশা থেকে সে বের হতে পারছে না।

ক) গণমাধ্যম কাকে বলে?         ১

খ) পরিবারকে কেন সামাজিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়?          ২

গ) তাসফিকের সামাজিকীকরণে কোন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।      ৩

ঘ) তাসফিকের সামাজিকীকরণে উদ্দীপকের শেষোক্ত মাধ্যমটির ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে—যুক্তি দেখাও।          ৪

১১। জয় ও হৃদয় দুই বন্ধু। তারা সমাজে মিলেমিশে বাস করে। তাদের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি; কিন্তু বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমাজ-সংস্কৃতিতে নানা ধরনের পরিবর্তন ও উন্নয়ন সূচিত হয়েছে। এসব পরিবর্তন ও উন্নয়ন নানা বৈশিষ্ট্যে সমুন্নত।

ক) কোন সাহিত্যিক আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ভিত গড়েছেন?        ১

খ) প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?      ২

গ) জয় ও হৃদয়ের সমাজে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের ধারণা আলোচনা করো।         ৩

ঘ) ‘সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন নানা বৈশিষ্ট্যে সমুন্নত’—বিশ্লেষণ করো।          ৪

 

 

১ থেকে ১১ নম্বর প্রশ্নের জ্ঞান (ক) ও অনুধাবনমূলকের (খ)-এর উত্তর দেওয়া হলো :

-এর (ক) : বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে UNFPA তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

১-এর (খ) : সবার সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও একটি শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে যেসব সংস্থা গড়ে উঠেছে তাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন হলেও অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, এমনকি রাজনৈতিক দিক দিয়েও দেশগুলো একে অপরের ওপর কমবেশি নির্ভরশীল। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিজেদের উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের পরস্পরের সহযোগিতা নিতে হয়। যেমন—একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এ জন্য অন্য দেশ ও সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়; আর এ লক্ষ্যে যেসব সংস্থা গড়ে উঠেছে তাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলে।

২-এর (ক) : মোগল সম্রাট আকবরের সেনাপতি ছিলেন মানসিংহ।

২-এর (খ) : এক দেশের সম্পদ বা পুঁজি অন্য দেশে গোপনে অন্যায়ভাবে পাঠিয়ে দেওয়াকে পুঁজি পাচার বলে।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির শাসনামলে ভারতবর্ষের, বিশেষ করে বাংলার প্রচুর সম্পদ ও পুঁজি ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে। দীর্ঘকাল ধরে পুঁজি পাচারের ফলে বাংলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্থবিরতা প্রকট হয়ে ওঠে, অন্যদিকে ইংল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হয়। এভাবে বাংলার সম্পদ ও পুঁজি ইংল্যান্ডে পাঠানোকেই পুঁজি পাচার বলা হয়েছে।

৩-এর (ক) : মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার গেরিলা দল ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ নামে পরিচিত ছিল।

৩-এর (খ) : পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আরো সুদৃঢ় আক্রমণের জন্য ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত সরকার একটি যৌথ কমান্ড গঠন করে।

১৯৭১ সালের জুন মাস থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাঙালি গেরিলা যোদ্ধারা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালাতে থাকে; এতে পাকিস্তানি বাহিনী দিশাহারা হয়ে পড়ে। পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর তাই আরো সুদৃঢ় আক্রমণের জন্য যৌথ কমান্ড গঠন করা হয়। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সমন্বয়ে এটি গঠিত হয়। যৌথ কমান্ড গঠনের ফলে যুদ্ধ দারুণ গতি লাভ করে।

৪-এর (ক) : নির্বিচারে বনের গাছপালা কেটে ফেলা এবং বনজসম্পদ ধ্বংস করাকে বন উজারকরণ বলে।

৪-এর (খ) : দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে আনার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রয়োজন।

আমাদের দেশের দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করে বলে দুর্যোগের শিকার হয়। দুর্যোগ মোকাবেলা করার মতো মজবুত ঘরবাড়ি তারা নির্মাণ করতে পারে না। বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের সময় নিচু এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। তীব্র ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা থেকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তাই আশ্রয়কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

৫-এর (ক) : GNP-এর পূর্ণরূপ হলো Gross National Product.৫-এর (খ) : দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র একটি চক্রাকার প্রবাহ, যা দেশের মানুষকে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত হওয়ার পথে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করে। অর্থনীতিবিদ র‌্যাগনার নার্কস দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের প্রবক্তা। তাঁর মতে, দরিদ্র লোকের পর্যাপ্ত খাদ্য থাকে না বলে দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। এরা কাজ পায় না বা করতে পারে না; ফলে আয় কম। কম আয়ের কারণে সঞ্চয় কম। এ কারণে বিনিয়োগ কম হয় বা মূলধন কম হয়। ফলে এরা দরিদ্রই থেকে যায় যেমন—

দরিদ্র—দুর্বল স্বাস্থ্য—বেকারত্ব—কম আয়—কম সঞ্চয়—কর্মবিনিয়োগ কম মূলধন—

চক্রাকার এই প্রবাহকে দারিদ্রের দুষ্টচক্র বলা হয়।

৬-এর (ক) : বাংলাদেশের আইন সভার নাম ‘জাতীয় সংসদ’।

৬-এর (খ) : যে সরকার ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়, তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে।

চিত্র : সম্রাট আকবর

সরকার রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান হলেও সব সরকারের ধরন এক নয়। গণতান্ত্রিক সরকারের একটি অংশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার। ক্ষমতা বণ্টনের নীতির ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সরকারকে এককেন্দ্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে ভাগ করা হয়েছে। একটি দেশ আয়তনে বড় হলে একটি মাত্র কেন্দ্র থেকে শাসন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়। একে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে। যেমন—গ্রেট ব্রিটেন, আমেরিকা।

৭-এর (ক) : সাধারণভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য যে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, তাকেই বলা হয় দেশটির জনসংখ্যানীতি।

৭-এর (খ) : কমিউনিটিভিত্তিক পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প হলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি উদ্যোগের একটি প্রকল্প।

এই প্রকল্পের আওতায় গ্রাম ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পরিবার ছোট রাখার জন্য পরামর্শ ও শিক্ষা দেওয়া হয়। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, টিকা, ইনজেকশন ও পুষ্টি শিক্ষা বিষয়ে সেবা প্রদান করা হয়।

৮-এর (ক) : যেসব কাজের বিনিময় মূল্য আছে অর্থাৎ যেসব কাজের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা যায় তাকে অর্থনৈতিক কাজ বলে।

৮-এর (খ) : ‘শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার’ কারণ মানুষ হিসেবে সমাজে বেঁচে থাকার জন্য তার শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষ মানবসম্পদে পরিণত হয়। সমাজের জন্য সে কিছু দিতে পারে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান যেমন মৌলিক অধিকার বেঁচে থাকার জন্য, তেমনি সমাজের প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে ও মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকার জন্য শিক্ষার প্রয়োজন। এ জন্য শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার।

৯-এর (ক) : রাখাইনদের আদিবাস মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে।

৯-এর (খ) : বাংলাদেশের মানুষ প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে একটি বহু সংস্কৃতির দেশে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো বহুকাল থেকে বাঙালিদের সঙ্গে এই ভূখণ্ডে বসবাস করে আসছে। জীবনের প্রয়োজনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো যেমন বাঙালিদের অনেক কার্যাবলি গ্রহণ করেছে, তেমনি বাঙালিরাও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর সংস্কৃতির অনেক উপাদান গ্রহণ করেছে। ফলে সবার মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশকে একটি বহু সংস্কৃতির দেশে পরিণত করেছে।

১০-এর (ক) : জনগণের কাছে সংবাদ, মতামত ও বিনোদন পরিবেশন করা হয় যেসব মাধ্যমে তাকেই বলা হয় গণমাধ্যম।

১০-এর (খ) : পারিবারিক সংস্কৃতির প্রতিফলন সরাসরি ব্যক্তির ওপর পড়ে বলে পরিবারকে সামাজিকীকরণের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়।

পরিবারে বসবাস করতে গিয়ে শিশু পরিবারের সদস্যদের প্রতি আবেগ, অনুভূতি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে। খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-পরিচ্ছদ, ধর্মচর্চা, শিক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে পরিবার ব্যক্তিকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে বলে পরিবারকে সামাজিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়।

১১-এর (ক) : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ভিত গড়েছেন।

১১-এর (খ) : যে বিষয় প্রত্নসম্পদ ও প্রত্ননিদর্শন সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে তাকে প্রত্নতত্ত্ব বলে।

‘প্রত্ন’ শব্দের অর্থ হলো পুরনো। প্রত্ন সম্পদ বলতে পুরনো স্থাপত্য ও শিল্পকর্ম, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলংকার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে বোঝায়। এসব প্রত্ননিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। প্রত্নতত্ত্ব ইতিহাসের এসব ধারণা দিয়ে থাকে।

 

মন্তব্য