kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আরেক স্বপ্নপূরণের অপেক্ষা

নির্মিত হচ্ছে তিস্তা সেতু

২৪ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরেক স্বপ্নপূরণের অপেক্ষা

একটি সেতু অনেক সময় একটি জনপদের মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন যখন সবার কাছে বাস্তবতা হয়ে ধরা দেয়, তখন সেই এলাকার চিত্র পাল্টে যায়। সে রকমই এক স্বপ্নের সেতু ছিল পদ্মা সেতু। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের সেতু নির্মাণ শুরুর পর থেকে ওই এলাকার চালচিত্র বদলে যেতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে বদলে যেতে শুরু করেছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, মানুষের জীবনযাত্রা। একটি স্থাপনা যে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মধ্যে কী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, অতীতে নানা সময়ে তা দেখা গেছে। যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর দেশের উত্তরাঞ্চলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়েছে। অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বেড়েছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর গত মাসে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় দেশের প্রথম ছয় লেনের মধুমতী সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। ৬৯০ মিটার দীর্ঘ মধুমতী সেতু সড়ক যোগাযোগকে আরো সহজ, দ্রুত এবং সহজলভ্য করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সহায়তা করবে।

এমন আরেকটি সেতু দেশের উত্তরবঙ্গে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার চিত্র বদলে দেবে। এরই মধ্যে দৃশ্যমান হওয়া গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মধ্যকার তিস্তা সেতুর কাজ আগামী বছরের জুনে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া সড়ক নির্মাণ, নদীশাসন, সংযোগ সড়ক, বক্স কালভার্ট, সাতটি ছোট সেতু, ৪০টি কালভার্ট ও জমি অধিগ্রহণে মোট ব্যয় ১৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সেতুর কাজ শেষ হলে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। কৃষিপণ্য রাজধানীতে পাঠিয়ে যথাযথ দাম পাবেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে অন্যান্য মালপত্র পরিবহন সহজসাধ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ দামের ক্ষেত্রে ছাড় পাবে। স্থানীয় মানুষ আশা করছে, সেতু নির্মাণের পাশাপাশি তিন কিলোমিটার অংশে নদীশাসন করায় এই এলাকার পতিত জমিগুলো ব্যবহার করে প্রান্তিক কৃষকরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।

খবরে প্রকাশ, এরই মধ্যে সেতু এলাকার দুই পাশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন অনেকে। অসংখ্য দোকানপাট, খাবার হোটেল ও রেস্টুরেস্ট গড়ে উঠেছে। জমির দামও বাড়ছে। আন্ত উপজেলা সংযোগের ক্ষেত্রেও তিস্তা সেতু বড় ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা মনে করে। সেতুর কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। এরই মধ্যে ৩০টি পিলারের মধ্যে ১৪টির কাজ শেষ। আর ৮৬ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে সুন্দরগঞ্জ অংশে ৫০ কিলোমিটারের কাজ চলছে। গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর-সুন্দরগঞ্জ-চিলমারী পর্যন্ত ৮৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজও এগিয়ে নেওয়া হবে।

সঠিক পরিকল্পনা থাকলে যেকোনো প্রকল্প যে সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায়, এসব সেতু তারই সাক্ষ্য বহন করছে। আবার সঠিক পরিকল্পনার অভাবে অনেক সেতু নির্মাণের পরও ব্যবহার করা যায় না। যেমন—গাজীপুরে তুরাগ নদের ওপর নির্মিত সেতুটি শুধু সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

আমরা আশা করব সব প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে নেওয়া হবে।

 



সাতদিনের সেরা