kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দ্রুত কাজ শুরু করা হোক

আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি বেদখল

৩ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশজুড়ে খাসজমি বা সরকারের মালিকানাধীন জমি দখলে উঠেপড়ে লেগেছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী। নদী, পাহাড়, বন—কোনো কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না তাদের হাত থেকে। এই দখলবাজদের অগ্রভাগে আছেন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। তাঁদের একটি বড় অংশই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসনও যেন তাঁদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠে এমনই একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় শতাধিক ভূমিহীন পরিবারের জন্য একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। গত বছরের জুলাই মাসে সেখানে খাসজমি চিহ্নিত করে জায়গাটির চারপাশে খুঁটিতে লাল নিশান টাঙিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি সেসব খুঁটি তুলে জায়গাটি নিজের দখলে নিয়ে নেন। এক বছরের বেশি সময় পার হলেও সেখানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ এখনো শুরুই করা যায়নি। বরং প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই জায়গায় খননযন্ত্র দিয়ে একাধিক পুকুর কেটেছেন। চাষাবাদ করছেন। বাধাহীনভাবে সেই জমি ভোগদখল করছেন।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সেখানে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উচিতার বিল মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত প্রায় আট একর জায়গা বাছাই করা হয়। ২০২১ সালের জুলাই মাসে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে সার্ভেয়ার জায়গাটির চারপাশে খুঁটিতে লাল নিশান টাঙিয়ে দেন। কিন্তু প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরপরই সেসব খুঁটি উপড়ে ফেলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। এরপর তিনি জায়গাটির তিন দিক কংক্রিটের পিলার ও কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করে নেন। খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে সেখানে একাধিক পুকুর কাটা শুরু হয়। সে সময় সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে খননযন্ত্র জব্দ করা হয়। কিন্তু ওই নেতার বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে থামেনি তাঁর ভোগদখল। পুকুর কাটার কাজ এখনো চলছে। জানা যায়, উচিতার বিল এলাকাটি বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী বিটের অধীন। বন বিভাগ এর আগেও সেখানে একাধিকবার বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু সম্ভব হয়নি। পাশেই রয়েছে এই নেতার ইটখোলা। বনায়নের গাছপালা ইটখোলায় লাকড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এক বছরেরও বেশি সময় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ কেন বন্ধ রয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে গৃহীত প্রকল্পের এমন দুরবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই, খাসজমি দ্রুত উদ্ধার করা হোক এবং প্রকল্পের কাজ শুরু করা হোক।



সাতদিনের সেরা