kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সরবরাহ নিশ্চিত করুন

শিল্পে ও বাসাবাড়িতে গ্যাসসংকট

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরবরাহ নিশ্চিত করুন

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশে গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। অনেক সময়ই পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ থাকে না। গ্যাসের অভাবে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লোকসান গুনছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বাসাবাড়িতেও ঠিকমতো চুলা জ্বলে না। কোথাও কোথাও সকাল থেকে গ্যাস থাকে না। কোথাও আবার সরবরাহ স্বাভাবিক হতে বিকেল গড়িয়ে যায়। কোথাও রান্নার কাজ সারতে পেরিয়ে যায় মধ্যরাত। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার আবাসিক এলাকায় দেখা দিয়েছে গ্যাসের তীব্র সংকট। বাসাবাড়িতে সকাল ও রাতে গ্যাস থাকলেও দুপুরে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না গৃহিণীরা। ঢাকার সাভারে শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গ্যাসসংকট প্রকট হয়েছে। দুই মাস ধরে এলাকার অনেক স্থানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না। ভোররাতে ঘণ্টাখানেক কিছুটা গ্যাস থাকলেও চাপ কম। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কালিয়াকৈর এলাকার পোশাক কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এভাবে চললে একসময় কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাসসংকটের কারণে সিরামিক, ইস্পাত ও টেক্সটাইল খাতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গেছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই গ্যাসের সংকট প্রকট হতে থাকে, যার কারণে অনেক সময় কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। গ্যাসের চাপ বাড়লে কারখানা চলে, কমলে বন্ধ রাখতে হয়।    

বাসাবাড়ি কিংবা শিল্প-কারখানা শুধু নয়, সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে গ্যাসসংকট। দিনের বিভিন্ন সময়ে সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ কমে যায়। গাড়িতে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে সময় বেঁধে দিয়েও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না সরবরাহ। গ্যাসের চাপ কম থাকায় প্রতিটি গাড়িকে গ্যাস নিতে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় দিনের বেলা বেশ কিছু সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। আর এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে গ্যাসচালিত যানবাহনগুলোর ওপর। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে বিভিন্ন পরিবহনে যেসব সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, সেসব স্টেশন দুই মাস ধরে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না।  

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, দেশে গ্যাসের মোট দৈনিক চাহিদা তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে চাহিদার বিপরীতে এলএনজিসহ গড়ে দৈনিক প্রায় তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। দাম বেড়ে যাওয়ায় স্পট মার্কেটের এলএনজি কেনা বন্ধ থাকায় এখন দুই হাজার ৭৫০ থেকে দুই হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংকট কাটিয়ে গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপটি কী হতে পারে? অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, গ্যাস না থাকার অন্যতম কারণ অবৈধ সংযোগ। গ্যাসের বৈধ সংযোগ কাগজে-কলমে বন্ধ থাকলেও অবৈধ সংযোগ দেওয়া নাকি থেমে নেই। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, শুধু নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলেই তিতাসের বৈধ গ্রাহকের তুলনায় অবৈধ গ্রাহকের সংখ্যা সাত গুণেরও বেশি।

গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দেরি না করে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে গ্যাস সরবরাহ।



সাতদিনের সেরা