kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আইনানুগ ব্যবস্থা নিন

রুট বাতিলের সুপারিশ

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইনানুগ ব্যবস্থা নিন

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে কোনো শৃঙ্খলা নেই। এখানে বাসগুলো পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চলে। একটি বাস আরেকটি বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত বছরের ডিসেম্বরে ২৫ কম্পানির ১৬৫টি বাসের রুট পারমিট বাতিলের সুপারিশ করেছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত এই সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঢাকার বাসের রুট পারমিট বাতিলের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির বা আরটিসির। পদাধিকারবলে এই কমিটির প্রধান ডিএমপি কমিশনার কালের কণ্ঠকে বলেছেন, রুট পারমিট বাতিলের কোনো সুপারিশ বিআরটিএর কাছ থেকে পাননি। আর বিআরটিএ বলছে, সুপারিশ নয়, রুট পারমিট বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

রুট পারমিট বাতিলে সুপারিশ করার আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে গত বছরের ৮ নভেম্বর থেকে এক মাসের অভিযান পরিচালনা করে বিআরটিএ। অভিযানে যেসব বাস অর্থদণ্ড দেওয়ার পরও এই এক মাসে একই অপরাধ একাধিকবার করেছিল, সেসব বাসের রুট পারমিট বাতিল করতে বলা হয়। বিআরটিএ যেসব বাসের বিরুদ্ধে রুট পারমিট বাতিলের সুপারিশ করেছে, আরটিসি কমিটির সিদ্ধান্তে তা কার্যকর হওয়ার কথা। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, করোনার কারণে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই কমিটির কোনো বৈঠক হয়নি। বৈঠক না হওয়ায় রুট পারমিট বাতিলের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

যেহেতু রুট পারমিট আরটিসি দিয়ে থাকে, তাই পারমিট বাতিলের ক্ষমতাও তাদের হাতে। রাজধানীতে একাধিক কম্পানির নামে বাস চলাচল করলেও প্রতিটি বাসের আলাদা রুট পারমিট। ফলে যে বাসের শাস্তি, সেই বাসই পাবে। এতে সংশ্লিষ্ট বাস কম্পানির কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আরটিসি যদি দুই বছরে একটি সভা করতে না পারে, তাহলে তো তাদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

রাজধানীর গণপরিবহনে কোনোভাবেই শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর থেকে ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। অনেক বাসেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কিছু বাস গেটলক, সিটিং ইত্যাদি নাম দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে থাকে। বাসে ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে রাখার কথা থাকলেও অনেক বাসে তা করা হয় না। এরাও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আবার সিএনজিচালিত বাসগুলো নানা কৌশলে ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া আদায় করে। বাসভাড়া নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই যাত্রী ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা, এমনকি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

এতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে ২০০৪ সালে ঢাকার জন্য করা ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনায় ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ বা বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে লক্কড়ঝক্কড় বাস তুলে নেওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণ হতে আর কত দিন লাগবে?



সাতদিনের সেরা