kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আবাসন সংকটের সমাধান হোক

বরিশাল মেডিক্যালের ঝুঁকিপূর্ণ ছাত্রাবাস

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবাসন সংকটের সমাধান হোক

আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের তৈরি করছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তাঁদের নিজেদের আর্তদশার প্রতিকার করবে কে? সেই প্রতিকারের দাবিতে তাঁরা অনেকে ধরনা দিয়েছেন। অনেক অনুনয়-বিনয় করেছেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হয়নি।

বিজ্ঞাপন

অবশেষে তাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে নেমেছেন। প্রশাসনিক ও শিক্ষা ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিতেও বাধ্য হয়েছেন। অবশেষে কর্তৃপক্ষের কিছুটা টনক নড়ে। তারা দ্রুত শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছে। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে শিক্ষার্থীরা তাঁদের আন্দোলন স্থগিতও করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের প্রতি তাঁদের সেই বিশ্বাস অটুট থাকবে কি?

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের অনেক স্থাপনাই অর্ধশতাধিক বছরের পুরনো। স্বাভাবিকভাবেই অনেক স্থাপনা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কলেজের হাবিবুর রহমান ছাত্রাবাসটি এতই জরাজীর্ণ যে কর্তৃপক্ষ এই ভবনের তৃতীয় তলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। এই তলাটির ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। বৃষ্টির সময় পানি ঢোকে। স্থানে স্থানে বাঁশ আর কাঠের খুঁটি ছাদে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু তীব্র আবাসন সংকট এবং শহরে ভাড়া করা বাসায় থাকার সামর্থ্য না থাকায় তৃতীয় তলার কয়েকটি কক্ষে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। ছাত্রদের জন্য অন্য যে দুটি আবাসিক হল রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও প্রায় একই রকম। বহু শিক্ষার্থী মেঝেতে শুয়ে রাত কাটান। স্নানাগার, শৌচাগারের অবস্থাও শোচনীয়। নিজেদের চেয়ার-টেবিল কিনে এনে ব্যবহার করতে হয়। ছাত্রাবাসের সীমানা দেয়াল ভাঙা। রাতে সেখান দিয়ে বহিরাগতরা ছাত্রাবাসের মাঠে ঢুকে মাদকের আড্ডা জমায়। নানা ধরনের অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, তিনটি ছাত্রী হলের অবস্থাও একই রকম। নিরাপত্তার অভাব তীব্র। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। বিষয়গুলো নিয়ে আগেও শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবাদ-বিক্ষোভও করেছেন। কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আবাসন সংকটের কোনো সমাধানই হচ্ছে না। তাই শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েছেন বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে। শিক্ষার্থীরা জানান, কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাঁরা আন্দোলন স্থগিত করেছেন। কিন্তু দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে ছাত্রাবাসগুলোর ভৌত অবকাঠামো এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার যে বর্ণনা পাওয়া গেছে, তা কোনো মতেই একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসের বর্ণনা হতে পারে না। যেখানে থাকতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রাণভয়ে ভীত থাকেন, শৌচাগার-স্নানাগারে যেতে দম বন্ধ হয়ে আসে—সেখানে বিদ্যাচর্চার পরিবেশ কতটুকু থাকে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের রাতবিরাতে হাসপাতালে যেতে-আসতে হয়। তাঁদের সেই চলাচলের নিরাপত্তা কোথায়? মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের হলে পাঠাগার থাকবে না—ভাবতেও কষ্ট হয়। আমরা চাই, দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের আবাসিক হলগুলোর সংস্কার করা হোক। পরিত্যক্ত হল ভেঙে নতুন হল নির্মাণ করা হোক। হলগুলোর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

 



সাতদিনের সেরা