kalerkantho

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

উত্তরায় গার্ডার ভেঙে মৃত্যু

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

গত সোমবার রাজধানীর উত্তরায় প্রাইভেট কারে বিআরটি প্রকল্পের উড়ালসেতুর গার্ডার পড়ে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুজন। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়নি। কারণ এত বড় গার্ডার সরানোর সক্ষমতা ফায়ার সার্ভিসের নেই।

বিজ্ঞাপন

উত্তরায় গার্ডারের চাপায় প্রাইভেট কারের পাঁচ যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ীদের খুঁজে বের করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গার্ডার দুর্ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১২ সালের ২৯ জুন চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের উড়ালসেতুর ১৩০ ফুট দীর্ঘ কংক্রিটের গার্ডার ভেঙে পড়ে একজন রিকশাচালক আহত হয়েছিলেন। একই বছরের ২৪ নভেম্বর ওই উড়ালসেতুরই তিনটি গার্ডার ভেঙে পড়ে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন আরো অনেকে। ২০১৭ সালের ১২ মার্চ ঢাকার মালিবাগ রেলগেট এলাকায় নির্মীয়মান মগবাজার-মৌচাক উড়ালসেতুর ৩৬ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ভেঙে পড়ে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় একটি করে পা হারান আরো দুজন। ২০২১ সালের ১৪ মার্চ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় বিআরটি প্রকল্পের একটি গার্ডার লঞ্চার ভেঙে তিন চীনা কর্মীসহ ছয়জন আহত হন। গত ১৫ জুলাই গাজীপুরে বিআরটি প্রকল্পের নির্মীয়মান উড়ালসেতুর ‘লঞ্চিং গার্ডার’ চাপায় প্রকল্পটির এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। ওই ঘটনায় আরেক শ্রমিক ও একজন পথচারী আহত হন। গত ১৫ আগস্ট ক্রেন দিয়ে ট্রেইলারে একটি গার্ডার তোলার সময় তা কাত হয়ে পড়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

প্রশ্ন হলো, ব্যস্ততম সড়কে দিনের বেলায় বিশালকায় গার্ডার স্থানান্তরের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার সময় নিরাপত্তা নির্দেশনা কি ঠিকমতো মানা হচ্ছে? ওই ক্রেনের অপারেটরের কি সেটি চালানোর লাইসেন্স ছিল?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার অভাবই এমন দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। আর সে কারণেই বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো দায়ভার নিতে হয়নি। কোনো জবাবদিহির মধ্যেও তারা আসেনি। যেকোনো প্রকল্পে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে বিনিয়োগ থাকে। কিন্তু বিআরটির প্রকল্পে ন্যূনতম কোনো মানদণ্ড মানা হয় কি না সে ব্যাপারে সন্দেহ আছে বিশেষজ্ঞদের। জনবহুল সড়কে কর্মব্যস্ত সময়ে কেন এই কাজ করা হচ্ছিল? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তার চর্চাগুলো অনুসরণ করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত না। এখানে প্রশাসনিক ব্যর্থতাও ছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

উন্নয়নকাজ চলবে, কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।



সাতদিনের সেরা