kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

শিক্ষক হত্যা-হেনস্তা

১ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

পর পর কয়েকটি ঘটনায় হতবাক দেশের মানুষ। গত শনিবার দুপুরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে প্রকাশ্যে শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আঘাত করে এক শিক্ষার্থী। পরে শিক্ষককে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় নিহত শিক্ষকের ভাই বাদী হয়ে মামলা করলে গত মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া থেকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা এবং বুধবার গাজীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অধ্যাপককে হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ছাত্রকে তাত্ক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরে মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে নড়াইলে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কলেজের ছাত্র ও স্থানীয়রা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়। ওই ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে আসে, যাতে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়। নড়াইলে শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মামলা করার পর সোমবার রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে।

আমরা স্মরণ করতে পারি গত এপ্রিলে শিক্ষাঙ্গনে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা। মুন্সীগঞ্জের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। নওগাঁয় হিজাব বিতর্কে হেনস্তা করা হয়েছিল আমোদিনী পালকে।

হৃদয় মণ্ডল, আমোদিনী পাল ও স্বপন কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর প্রশ্ন তো উঠতেই পারে যে আমাদের শিক্ষার্থীরা কি ‘সাম্প্রদায়িক’ মনোভাব নিয়ে গড়ে উঠছে? এককথায় এ প্রশ্নের জবাব দেওয়া যাবে না। তবে স্বীকার করতে হবে কোথাও একটা ছন্দঃপতন ঘটেছে। যে অসাম্প্রদায়িক আদর্শ নিয়ে এই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, সেই আদর্শ থেকে দেশ আজ অনেকটাই সরে এসেছে।

কিন্তু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের ওপর চড়াও হওয়ার মতো ঘটনা কেন ঘটছে? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজাও আজ জরুরি। সমাজ আজ সব ধরনের অবক্ষয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। সামাজিক অনুশাসন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। সেই সংস্কৃতি থেকে সরে এসেছে আজকের বাংলাদেশের সমাজ। খুব স্বাভাবিকভাবেই মূল্যবোধ ক্ষয়ে গেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের জায়গায়ও সেই অবক্ষয় দেখতে পাই আমরা। যে কারণে একজন হৃদয় মণ্ডল, আমোদিনী পাল কিংবা স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ‘সাম্প্রদায়িকতা’র শিকার হতে হয়। শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে জীবন দিতে হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, সমাজ কি তার দায়িত্ব পালন করছে? পরিবারগুলো কি সমাজের কাছে দায়বদ্ধ থাকছে? উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে? সবাই যার যার জায়গা থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলে বোধ হয় আজকের এই দিনটি দেখতে হতো না। একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়াতেই কি এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে?

 



সাতদিনের সেরা