kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

ঢাকার বাসযোগ্যতা তলানিতে

২৫ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বসবাসযোগ্যতার বিচারে এ বছর ঢাকার অবস্থানের সামান্য উন্নতি হয়েছে। তালিকায় এ বছর বিশ্বের ১৭২টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৬৬তম। অর্থাৎ নিচের দিক থেকে সপ্তম। আগের বছর ১৪০টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৩৭তম, নিচের দিক থেকে চতুর্থ।

বিজ্ঞাপন

শহরের সংখ্যা ৩২টি বাড়ার পরও নিচের দিক থেকে সপ্তমে ওঠা খুব একটা সন্তোষজনক নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম সংস্থা ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা বিভাগ ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে। এ বছর তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। শহরটি ১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ৯৯.১। আর তালিকার একদম তলানিতে রয়েছে যুদ্ধপীড়িত সিরিয়ার দামেস্ক শহর, সূচকে যার স্কোর ৩০.৭। শহরগুলোর বসবাসযোগ্যতা বিচারের জন্য মোট পাঁচটি প্রধান মানদণ্ড রয়েছে ইআইইউয়ের। এগুলো হচ্ছে স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো। এসব মানদণ্ডের অধীনে আরো বিভাজন রয়েছে এবং সেসবের ভিত্তিতে আলাদাভাবে নম্বর দেওয়া হয়। এরপর মোট নম্বরের ভিত্তিতে শহরগুলোর অবস্থান নির্ণয় করা হয়। এ বছর বাংলাদেশ ১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ৩৯.৫ নম্বর। আগের বছর ১০০ নম্বরের মধ্যে ঢাকা পেয়েছিল ৩৩.৫। এ বছর অন্যান্য মানদণ্ডে ঢাকার নম্বর কিছুটা এগোলেও অবকাঠামোতে ঢাকার নম্বর একই রয়ে গেছে। ২০২১ সালের মতোই ঢাকা পেয়েছে ২৬.৮ নম্বর। তালিকার শীর্ষ ১০টি শহরের মধ্যে ছয়টিই ইউরোপের।

বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে কিংবা নিকৃষ্টতম শহরগুলোর মধ্যে ৭ নম্বরে থাকা যে মোটেও গৌরবজনক নয়, তা প্রায় সবাই এক বাক্যে স্বীকার করবেন। অথচ দীর্ঘকাল ধরেই ঢাকার অবস্থান এমনই। ২০১৩ সালেও ঢাকা ছিল নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়। বাংলাদেশ কেন নিচের দিকে এভাবে পড়ে থাকছে? কয়েক বছরে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কিছুটা উন্নতি হলেও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিচারে আমরা পিছিয়ে আাাছি। খুন, ধর্ষণসহ ভয়ংকর অপরাধের মাত্রা অনেক বেশি। মানুষের নিরাপত্তার অভাব আছে। পরিবেশদূষণের চিত্র ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত রাজধানী শহর। চিকিৎসা ও শিক্ষার সহজলভ্যতা ও মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। যানজটে এখনো নাকাল হতে হয়। গণপরিবহন সহজলভ্য নয়, মানও খুব খারাপ। নাগরিকদের বিনোদন ও ভ্রমণের সুযোগ খুবই কম। জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকার বসবাসযোগ্যতার খুব বেশি উন্নতি হবে, এমনটা আশা করাও হবে বাতুলতা।

নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রকে এ জন্য পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে হবে। ঢাকার বসবাসযোগ্যতা উন্নয়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা