kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

নদী খনন দ্রুততর করুন

বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নদী খনন দ্রুততর করুন

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পানি কমছে। তার পরও সোমবার পর্যন্ত প্রধান নদীগুলোর বেশ কিছু পয়েন্টে পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ দুই জেলায় ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে সোমবারও নেত্রকোনায় বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। যমুনা নদীতেও পানি বাড়ছে এবং বগুড়ার ধুনট উপজেলায় নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। সিলেট এলাকায় পানি কমে আসায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বেশি করে চোখে পড়ছে। ৫০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে অন্য সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে যত ক্ষতি হয়, শুধু বন্যায় তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। এপ্রিলের শুরুতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মে মাসে আবারও ঢলের পানিতে সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা হয়। আবারও বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলের ক্ষতি হয়েছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও। একই সঙ্গে সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীভাঙনে অনেক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ধারণা করা হয়, এসব এলাকার ২০ হাজারের বেশি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ফলে এ বছরও বন্যায় হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সামনে বর্ষা মৌসুম। আরো বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাতে ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যার আঘাত প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তার প্রধান কারণ নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া। বৃষ্টির পানি এবং উজান থেকে আসা ঢলের পানি নদী দিয়ে নামতে না পারায়ই সেই পানি সমতল ভাসিয়ে যায়। অতীতেও বড় বন্যা হতো। কিন্তু সেটি হতো ১০-২০ বছর পর পর। এখন প্রায় প্রতিবছরই এক বা একাধিক বড় বন্যা হয়। ক্ষয়ক্ষতিও অনেক বেশি হয়। এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় দ্রুত নদীগুলো খনন করা। জানা যায়, ব্রিটিশ আমলেও এ দেশের নদীগুলো নিয়মিত খনন করা হতো। অথচ তখন ভূমিক্ষয় কম ছিল। পলি জমে নদীও ভরাট হতো অনেক কম। এখন যেমন উজানে, তেমনি দেশে মানুষের প্রকৃতিবিরুদ্ধ কর্মকাণ্ড অনেক বেড়েছে। বেড়েছে ভূমিক্ষয় এবং নদীতে পলি জমার প্রক্রিয়া। পাকিস্তান আমলে নদী খননের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় এখানে কোনো ড্রেজারও ছিল না। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সরকার প্রথম চারটি ড্রেজার সংগ্রহ করে। তা দিয়ে প্রধান নদীবন্দরগুলো নাব্য রাখা হতো। এরপর আর কোনো সরকার ড্রেজার কেনেনি। সর্বশেষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কয়েক ডজন ড্রেজার সংগ্রহ করেছে। তা দিয়ে নদী খননের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নদী খননের গতি বাড়ানো এবং তা নিয়মিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। অন্তত প্রতিবছর যে পরিমাণ পলি জমা হয় তার চেয়ে বেশি পরিমাণ পলি অপসারণ করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রতিবছর বন্যায় যে পরিমাণ ক্ষতি হয় তা বন্ধ না করলে বাংলাদেশের উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

 



সাতদিনের সেরা