kalerkantho

শনিবার ।  ২৮ মে ২০২২ । ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৬ শাওয়াল ১৪৪

প্রকল্পের মান নিশ্চিত করুন

নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধে ফাটল-ধস

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকল্পের মান নিশ্চিত করুন

উপকূলীয় বেড়িবাঁধ আরো টেকসই করে গড়ে তোলার জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প (সিইআইপি-১) গ্রহণ করা হয়েছিল। ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী মাসে বাঁধটি হস্তান্তর করার কথা।

বিজ্ঞাপন

টেকসই বাঁধ নির্মাণের কারণে আশান্বিত হয়ে উঠেছিল ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী উপকূলীয় এলাকার মানুষ। কিন্তু তাদের সেই আশা আবারও হতাশায় রূপ নিয়েছে। হস্তান্তরের আগেই বাগেরহাটের শরণখোলায় সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলা পয়েন্টে প্রায় ২০ ফুট এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের ব্লক ধসে গেছে। বেরিয়ে এসেছে ভেতরের জিও ব্যাগ। নদীশাসন না করায় বলেশ্বর নদের ভাঙনে বাঁধটি ঝুঁকির মুখে চলে এসেছে। তাই এলাকাবাসী আবারও ফিরে গেছে এক আতঙ্কিত জীবনে।

শুধু এই একটি প্রকল্প নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এবং বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জনগণের জান-মাল ও ফসল রক্ষায় সারা দেশে গৃহীত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের চিত্র প্রায় একই রকম। হাওরাঞ্চলে এ বছর আগাম বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগ আছে, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পগুলোর কাজে ব্যাপক অনিয়ম থাকায়, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় এবং বাঁধ নির্মাণ মানসম্মত না হওয়ায় একের পর এক বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। জাতীয় স্বার্থে গৃহীত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে এমন ক্ষতিকর অবহেলা কেন?

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ক্রমেই বেশি করে দৃশ্যমান হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা ক্রমেই প্রবল হচ্ছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙন এলাকার মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর একনেকে ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। অথচ এখন পর্যন্ত ৮২.৭৯ শতাংশ কাজই বাকি। জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান ১১টি প্রকল্পের ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রকল্পেরই কাজ শেষ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। প্রকল্পগুলো নিয়ে সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পৃথক আলোচনা হয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন নিয়ে তিনটি কমিটিই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জাতীয় প্রয়োজনের গুরুত্ব বিবেচনা করেই বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার অর্থ হলো, যাঁদের স্বার্থে প্রকল্প নেওয়া হয় তাঁরা প্রকল্পের উপকার ভোগ থেকে বঞ্চিত হন। উপকূলীয় এলাকার মানুষের দুর্যোগকালীন আশ্রয়স্থল সময়মতো নির্মিত না হলে আরো বেশি সময় তাঁদের জীবন ঝুঁকির মুখে থাকবে। তাই শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, প্রকল্পের সময়মতো ও মানসম্মত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সাউথখালীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণে কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখতে হবে এবং দ্রুত বাঁধ মেরামত করতে হবে।



সাতদিনের সেরা