kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করুন

কৃষিজমিতে কারখানা

১৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করুন

সারা দেশেই দ্রুত কমে যাচ্ছে কৃষিজমি। বিশেষ করে বড় শহর ও মহাসড়কের পাশে কৃষিজমি কমছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। মানুষ বাড়ছে। কৃষিজমিতে বাড়িঘর উঠছে।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি নানা ধরনের কারখানা, ইটখোলা, আবাসন প্রকল্প, অ্যামিউজমেন্ট পার্কসহ নানা ধরনের স্থাপনা গড়ে উঠছে। কৃষিজমির অন্যান্য ব্যবহার নিরুৎসাহ করতে আইন থাকলেও সেসবের বাস্তবায়ন হচ্ছে না। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, মানিকগঞ্জে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বেশ বড় একটি এলাকা নিয়ে কৃষিজমিতে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। জানা যায়, সেখানে ক্রপপি ফুড অ্যান্ড বেভারেজ নামে একটি কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে থাকা খাল পারাপারের জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অনুমতি ছাড়াই বানানো হয়েছে কালভার্ট। এমনকি খালের জায়গা দখল করে সীমানাপ্রাচীর গড়ে তোলারও অভিযোগ উঠেছে। শুধু এই একটি কারখানা নয়, মহাসড়কসংলগ্ন খালটির মানিকগঞ্জ অংশের ৩০ কিলোমিটারে এরই মধ্যে অন্তত ৫০টি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। যে যেভাবে পারছে খালের ওপর কালভার্ট কিংবা মাটি ভরাট করে রাস্তা বানিয়ে নিচ্ছে। কৃষিজমি কমতে থাকার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৬ সালে দেশে কৃষিজমির পরিমাণ ছিল ৯৭ লাখ ৬১ হাজার ৪৫০ হেক্টর। ২০০০ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরে সেই জমি কমেছে তিন লাখ ২১ হাজার ৯০৯ হেক্টর। এর পরের ১০ বছরে কমেছে ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৬০৪ হেক্টর। অর্থাৎ আগের ২৫ বছরে যে পরিমাণ কৃষিজমি কমেছে পরের ১০ বছরে কমেছে দ্বিগুণেরও বেশি। ধারণা করা হয়, ২০২০ সাল নাগাদ কৃষিজমি কমার হার আরো বেড়েছে। এভাবে কৃষিজমি কমতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনের জন্য জমি পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়বে। এসব কারণে সরকার কৃষিজমির অন্যান্য ব্যবহার নিরুৎসাহ করতে আইন প্রণয়ন করছে। জাতীয় কৃষি নীতি ১৯৯৯-এ কৃষিজমি রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। কৃষিজমি সুরক্ষাসংক্রান্ত একাধিক আইন রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘কৃষিজমি (যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ) বিল-২০২২’ নামে একটি বেসরকারি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসবের প্রয়োগ নেই বললেই চলে। তা না হলে কৃষিবহির্ভূত কাজে কৃষিজমির ব্যবহার বন্ধে প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয় না কেন? জানা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে থাকা খাল দিয়ে আগে বছরে অন্তত ছয় মাস নৌকা চলাচল করত। পানির প্রবাহ থাকত। কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া যেত। স্থানীয়রা মাছ ধরত। এখন নৌকা চলাচল তো দূরের কথা, পানির স্বাভাবিক প্রবাহই থাকে না। আমাদের বোধগম্য নয়, পানির প্রবাহ বন্ধ করা অবৈধ কালভার্ট ও রাস্তা সওজ কেন অপসারণ করে না?

আমরা মনে করি, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির অন্য যেকোনো ব্যবহার অবৈধ। এই অবৈধ কাজ বন্ধে প্রশাসনের উপযুক্ত নজরদারি থাকতে হবে। অবৈধ তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা প্রতিটি অবৈধ স্থাপনা দ্রুত অপসারণ করা হোক।

 



সাতদিনের সেরা