kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সমস্যাগুলো দূর করা হোক

রাজৈর আশ্রয়ণ প্রকল্প

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আশ্রয়ণ প্রকল্পের কিছু ঘর ভেঙে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তদন্ত হয়। কিছু ঘরে ত্রুটিও ধরা পড়ে। সরকারের এই মহৎ প্রকল্পটিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে কিছুসংখ্যক মানুষের কারণে।

বিজ্ঞাপন

২০২০ সালের ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, দেশের একটি মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না। তাঁর এই ঘোষণার পর সারা দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ভূমি ও গৃহহীন আট লাখ ৮৫ হাজার ৬২২ পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার হিসেবে প্রতিটি গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারই পাচ্ছে দুর্যোগ-সহনীয় সেমিপাকা ঘর, আর ২ শতাংশ জমির মালিকানা। সরকারের একটি শুভ উদ্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্প। অল্পসংখ্যক মানুষের কারণে এই মানবিক প্রকল্পটিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। গৃহনির্মাণ প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। নিম্নমানের কাজের পাশাপাশি উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা ও নির্মাণসামগ্রী নেওয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। অনেক ঘর মালিকের অভিযোগ, এসব ঘর তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। হস্তান্তরের শুরু থেকে অনেক ঘরে ছিল না পানি ও বৈদ্যুতিক সংযোগের ব্যবস্থা। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশের অভাবে মাদারীপুরের রাজৈরের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর সুতারপাড় এলাকার বেশির ভাগ ঘরই খালি পড়ে আছে। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি এসব পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হলেও এখনো ৪৪টি পরিবার ঘরে বসবাস শুরু করেনি। ফলে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে টিউবওয়েল, টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় নানা সরঞ্জাম। বরাদ্দপ্রাপ্তদের বক্তব্য হচ্ছে, ঘরের মধ্যে জায়গা কম। টয়লেট ও রান্নাঘর ব্যবহার অনুপযোগী। টিউবওয়েলও নষ্ট। সব মিলিয়ে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারের কল্যাণকামী ভাবমূর্তি একটি বিশেষ পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার কথা। সব মহল থেকেই এই প্রকল্পের প্রশংসা করা হলেও অল্পসংখ্যক মানুষের দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, যা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সঙ্গে যুক্ত উদ্যোগ বা প্রকল্পে এটা প্রত্যাশিত নয়।

 

 

 



সাতদিনের সেরা