kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

দুর্ঘটনার নামে হত্যা

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

আমাদের সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ। ঘর থেকে বের হয়ে আবার যে ঘরে ফেরা যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বেপরোয়া গতির বাস, ট্রাক বা অন্য কোনো গাড়ি যেকোনো সময় আপনাকে চাপা দিয়ে চলে যেতে পারে। কয়েক দিন আগে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থীকে চাপা দিলে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

এর প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আবার রাস্তায় নামে। ছাত্রদের জন্য বাসভাড়া অর্ধেক ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যেই রাজধানীর রামপুরায় আরেক শিক্ষার্থীকে চাপা দেয় অনাবিল পরিবহনের একটি বাস। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসএসসি পরীক্ষার্থী মাঈন উদ্দিন দুর্জয় তার ভগ্নিপতির সঙ্গে রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় প্রতিযোগিতা করে চালানো বাসটি দুর্জয়, তার ভগ্নিপতি ও অন্য একজনকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। দুর্জয় ঘটনাস্থলেই মারা যায়। অন্য দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। জনতা বাসটি আটক করলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে যান। ক্ষুব্ধ জনতা পরে সেই বাসটিসহ অন্তত আটটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে যাত্রাবাড়ী থেকে পালিয়ে যাওয়া চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবারও শিক্ষার্থীরা কয়েকটি সড়ক অবরোধ করে রাখে। ফলে শহরজুড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

সড়কে যানবাহনচালকদের স্বেচ্ছাচারিতা ক্রমেই বাড়ছে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, দুই বাসের রেষারেষি এবং পরস্পরকে আটকে রেখে যাত্রী তোলার চেষ্টা কিংবা প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। ফলে দুর্ঘটনার নামে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এর আগে ২০১৮ সালে বিমানবন্দর সড়কে এভাবে দুই শিক্ষার্থী হত্যার পর ছাত্ররা রাস্তায় নেমে এসেছিল। রাজধানী কার্যত অচল হয়ে গিয়েছিল। তারপর তাড়াহুড়া করে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছিল। আইনটির দুর্বলতা নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। কিন্তু আইনে যা আছে তারও সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আর আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় দুর্ঘটনার নামে হত্যার ঘটনা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার দাবি মেনে নিয়েছে। আজ ১ ডিসেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে। আমরা মালিক সমিতির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। কিন্তু একই সঙ্গে সড়কে বাস চলাচলে বিদ্যমান নৈরাজ্য দূর করার ক্ষেত্রেও তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

সড়কে নৈরাজ্যের কারণ হিসেবে যে বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া গতি, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব, বৈধ লাইসেন্স না থাকা, নেশাগ্রস্ততা, অতিরিক্ত কাজের চাপ ইত্যাদি। এসব অনিয়ম রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চালকদের ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদেরও শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা