kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত থাক

জিডিপিতে আবারও ভারতের ওপরে

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত থাক

মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে বাংলাদেশ চলতি বছর আবারও ভারতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তাদের হিসাবে ২০২১ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২১৩৮.৭৯৪ মার্কিন ডলার, একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২১১৬.৪৪৪ ডলার। ফলে পর পর দুই বছর ভারতকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এটি আমাদের জন্য একটি বড় সুসংবাদ।

গত প্রায় দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুততর হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশের এই অগ্রগতি। অথচ ২০০৭ সালেও বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ভারতের অর্ধেক। শুধু জিডিপিতে নয়, আর্থ-সামাজিক আরো অনেক সূচকেই আজ বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলছে। যেমন—ভারতের মেয়েদের তুলনায় বাংলাদেশের মেয়েদের শিক্ষার হার বেশি। নারীপ্রতি জন্মহার কম। নবজাতক ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হারও বাংলাদেশে অনেক কম। আর অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্রে আরো আগেই পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ। মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে তিন বছর আগে এবং মোট জিডিপিতে পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে ২০১৯ সালে। ২০২০ সালে কিছুটা এগোলেও আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২১ সালে পাকিস্তান আবার পেছনে পড়বে এবং এর পর থেকে ক্রমাগতভাবে পেছাতেই থাকবে। অথচ স্বাধীনতার আগে দুই পাকিস্তানের মধ্যে কোনো তুলনাই হতো না। স্বাধীনতার পরও ৩০ বছর পর্যন্ত পাকিস্তানের অবস্থান ছিল বাংলাদেশের দ্বিগুণ।

আইএমএফ মঙ্গলবার যে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডাব্লিউইও) প্রকাশ করেছে তাতে বলা হয়, করোনা মহামারির প্রভাব কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৯.৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৫ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও মাথাপিছু জিডিপিতে ভারত পেছনে থাকবে, কারণ আগের বছর ভারতের ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল মাইনাস ৭.৩ শতাংশ। তবে এটি ঠিক ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতির দেশ। আকারের দিক থেকে ভারতের অর্থনীতি এখনো বাংলাদেশের তুলনায় ১০ গুণ বড়। আর পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি বা পিপিপির ভিত্তিতে জিডিপির যে আকার হিসাব করা হয়, আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী সেখানে বিশ্বে ভারতের অংশ ৭.০৩৯ শতাংশ, আর বাংলাদেশের অংশ মাত্র ০.৬৫৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং বাংলাদেশের এই অগ্রগতি আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ বা এডিওতে বলা হয়েছিল, এশিয়ার ৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে এবং বাংলাদেশের অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত থাকবে। করোনা মহামারির কারণে প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হলেও আমরা আশা করি, বাংলাদেশ দ্রুত তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।



সাতদিনের সেরা