kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু ও বাংলা

তাঁর দেখানো পথেই দেশ

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু ও বাংলা

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৭৪ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সেটা ছিল জাতিসংঘের ২৯তম অধিবেশন। এর আট দিন আগে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গতকাল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন।

১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে সাধু ভাষায় দেওয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু শুরুতেই বলেন, ‘আজ এই মহামহিমান্বিত সমাবেশে দাঁড়াইয়া আপনাদের সাথে আমি এই জন্য পরিপূর্ণ সন্তুষ্টির ভাগীদার যে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ আজ এই পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করিতেছেন। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পূর্ণতা চিহ্নিত করিয়া বাঙালি জাতির জন্য ইহা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার অর্জনের জন্য এবং একটি স্বাধীন দেশে মুক্ত নাগরিকের মর্যাদা নিয়া বাঁচার জন্য বাঙালি জনগণ শতাব্দীর পর শতাব্দীব্যাপী সংগ্রাম করিয়াছেন, তাঁহারা বিশ্বের সকল জাতির সাথে শান্তি ও সৌহার্দ নিয়া বাস করিবার জন্য আকাঙ্ক্ষিত ছিলেন।’ জাতিসংঘ সনদে মানবাধিকারসহ যেসব মহান আদর্শের কথা বলা হয়েছে, সেসবের উল্লেখ করে তিনি সেদিন বলেছিলেন, এ সবই বাংলাদেশের জনগণের আদর্শ। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘যাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ বিশ্ব-সমাজে স্থানলাভ করিয়াছে, এই সুযোগে আমি তাঁদেরকেও অভিবাদন জানাই। বাংলাদেশের সংগ্রামে সমর্থনদানকারী সকল দেশ ও জনগণের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংহতকরণ, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় বাংলাদেশকে যাঁহারা মূল্যবান সাহায্য দিতেছেন, তাঁহাদেরকেও আমরা ধন্যবাদ জানাই। জাতিসংঘে যাঁহারা আমাদের স্বাগত জানাইয়াছেন, তাঁহাদেরকে আমি বাংলাদেশের পক্ষ হইতে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাইতেছি।’

ভাষণ শেষ করার আগে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘জনাব সভাপতি, মানুষের অজয় শক্তির প্রতি বিশ্বাস, মানুষের অসম্ভবকে জয় করার ক্ষমতা এবং অজেয়কে জয় করার শক্তির প্রতি অকুণ্ঠ বিশ্বাস রাখিয়া আমি আমার বক্তৃতা শেষ করিতে চাই।’ এই কথার মধ্য দিয়ে তিনি মূলত বাঙালির শক্তি সাহস ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতার কথাই তুলে ধরেছেন। ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা দুঃখ ভোগ করিতে পারি কিন্তু মরিব না। টিকিয়া থাকার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করিতে জনগণের দৃঢ়তাই চরম শক্তি। আমাদের লক্ষ্য স্বনির্ভরতা। আমাদের পথ হইতেছে জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও যৌথ প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পদ ও প্রযুক্তিবিদ্যার শরিকানা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা হ্রাস করিবে এবং আমাদের কর্মকাণ্ডকেও সহজতর করিবে, ইহাতে কোনো সন্দেহ নাই। নতুন বিশ্বের অভ্যুদয় ঘটিতেছে। আমাদের নিজেদের শক্তির ওপর আমাদের বিশ্বাস রাখিতে হইবে।’ মূলত সেই শক্তির পরিচয় দিতে পেরেছে বাংলাদেশের মানুষ। আজ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতু। উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল।

বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে আজ কাণ্ডারি তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা।



সাতদিনের সেরা