kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বীমার টাকা পেতে জীবনক্ষয়

কম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা জরুরি

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেশের বীমা কম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। একটি বড় অভিযোগ হচ্ছে, গ্রাহকের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নিলেও মেয়াদ শেষে অনেক কম্পানি সঠিক সময়ে বীমার দাবি পরিশোধ করে না। নিয়ম অনুযায়ী পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বীমার দাবি পরিশোধ করতে হবে। দেরি করলে ব্যাংকঋণের সুদের চলতি হারের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি সুদ দিয়ে দাবি পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বীমা পলিসির মেয়াদ শেষ করেও বছরের পর বছর টাকার জন্য সংশ্লিষ্ট বীমা কম্পানির দপ্তরে গ্রাহকদের ঘুরতে হয়। উপায় না পেয়ে এসব গ্রাহক বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে অভিযোগ করছেন। আইডিআর সূত্রে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রাপ্ত বীমা দাবির অর্থের জন্য গত এক বছরে কমপক্ষে ৩২ হাজার ৭৯৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের বিপরীতে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায় প্রায় ৪৬৭ কোটি টাকা। গ্রাহকদের অভিযোগ, পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হলেও বীমা দাবি পরিশোধ করছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। ভবিষ্যতে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বছরের পর বছর গ্রাহক প্রিমিয়াম জমা দিয়ে এলেও পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কম্পানি তাঁদের অর্থ ফেরত দিচ্ছে না।

জীবন বীমা পাঁচ, ১০, ১২, ১৫, ১৮ ও ২০ বছর মেয়াদি হয়ে থাকে। দেশে বীমাসংক্রান্ত বেশির ভাগ কাজ হয় এজেন্টের মাধ্যমে। এতে গ্রাহক ও কম্পানির মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। তাই অনেক গ্রাহক এজেন্টের মাধ্যমে প্রতারণারও শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় এজেন্ট চাকরি ছেড়ে চলে যান। সে ক্ষেত্রে বিপাকে পড়েন গ্রাহকরা। আবার দেখা যায়, বীমা কম্পানিগুলো শেয়ারবাজার অথবা নন-ব্যাংকিং খাতে অর্থ বিনিয়োগ করে। কিন্তু লগ্নি করা অর্থ ও মুনাফা সময়মতো উত্তোলন করে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইচ্ছা করলে অর্থ উত্তোলন করে গ্রাহককে ফেরত দেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কম্পানির মালিকদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

যেসব বীমা প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিচ্ছে না, তাদের ব্যাপারে আইডিআরএকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে বীমা কম্পানিগুলোর স্বচ্ছতাও জরুরি।

 



সাতদিনের সেরা