kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙা

জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙা

আমাদের রাজনীতিতে অনেক নেতিবাচক প্রবণতা রয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে আগের সরকারের গৃহীত অনেক ভালো পদক্ষেপও বদলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি চলমান প্রকল্পও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা ব্যবস্থা তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটিও বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। পরে আবার তা বহাল করা হয়েছে। অথচ এটি গ্রামীণ জনপদের মানুষের বহু উপকারে আসছে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণেও এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্পন্ন হয়েছে। এটি অনস্বীকার্য, বর্তমান সরকারের সময় দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এটিও এক শ্রেণির মানুষের গাত্রদাহের কারণ হচ্ছে। তাদের কথায় ও কাজে নানাভাবে তা প্রকাশও পাচ্ছে। অথচ এসব উন্নয়নকাজে দেশ ও দেশের মানুষ উপকৃত হচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এমন একটি ঘটনা হচ্ছে, মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে গৃহহীন মানুষকে বিনা মূল্যে দেওয়া ঘরগুলো ভেঙে দেওয়া এবং পরে প্রচার করা যে সরকার গরিব মানুষকে নিম্নমানের ঘর দিয়েছে। এর চেয়ে নিচু মানসিকতা আর কী হতে পারে?

মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের প্রায় দেড় লাখ ঘর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩০০টি ঘর নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যে ভেঙে গেছে। এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আগ্রহের প্রকল্প হিসেবেই বিবেচিত হয়। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী দ্রুত বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সেই তদন্ত রিপোর্ট তাঁর হাতে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ঘরগুলো ভেঙেছে, তারপর গণমাধ্যমকে ডেকে সেসব প্রচারের আয়োজন করেছে। আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় এটি হয়তো বড় কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটি অনেক বড় ঘটনা। এরা আজ যা করেছে, কাল তার চেয়ে অনেক বড় কিছু করে ফেলতে পারে। তিন বছর ধরে পানির ওপরে থাকা পদ্মা সেতুর খুঁটিগুলোতে কোনো নৌযান ধাক্কা দিল না, অথচ এ বছর ছয়বার পদ্মা সেতুর খুঁটিতে ফেরির ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাকেও অনেকে সন্দেহের চোখে দেখছেন।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে, আগামী দিনে না-ও থাকতে পারে। তখন অন্য দল ক্ষমতায় আসবে এবং ব্যাপক উন্নয়নকাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেবে—দেশের মানুষ এমনটাই প্রত্যাশা করে। কিন্তু কোনো দলের সরকারের অর্জনকে ম্লান করার জন্য এমন ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। নিকট-অতীতেও আমরা এমন জঘন্য মনোবৃত্তির অনেক পরিচয় পেয়েছি। শত শত বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রেন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রেলস্টেশনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে। মানুষের ক্ষতি হয়েছে। জনগণের অর্থে জনগণের চলাচলের সুবিধার জন্য আবার সেসব কিনতে হয়েছে। আমরা চাই, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক। পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করা হোক। সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

 



সাতদিনের সেরা