বিদ্যুতের পরিষেবা নিয়ে গ্রাহক সমাজের অভিযোগের অন্ত নেই। একে তো অসহনীয় লোডশেডিং, অন্যদিকে কিছু দিন পর পর মূল্যবৃদ্ধির চাপ। মাঝেমধ্যে পাওয়া যায় ভূতুড়ে বিলের খবর। রয়েছে এই খাতে, সেই খাতের নামে অতিরিক্ত টাকা কর্তনের অভিযোগ। এসবের মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে এক ডিজিটাল ভোগান্তি। আগে যেখানে প্রি-পেইড মিটার রিচার্জে ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর পাওয়া যেত এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ২৪০ ডিজিটের বিশাল সংখ্যার স্তূপে। বলা বাহুল্য, যে কারো জন্য এই দীর্ঘ সংখ্যা ইনপুট দেওয়া শুধু বিরক্তিকরই নয়, কারো কারো জন্য অসম্ভবও বটে।
কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পর এই বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে। শুধু এবার নয়, মূল্যবৃদ্ধি হলেই প্রি-পেইড গ্রাহকদের নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। খবরে বলা হয়েছে, দুই শতাধিক ডিজিটের দীর্ঘ সংখ্যা ইনপুট দেওয়ার সময় অনেকই ভুল করছেন। এরপর ছুটছেন বিদ্যুৎ অফিসে। আবার ভুলের কারণে অনেকের মিটার সাময়িকভাবে লক হয়ে যাচ্ছে। এমন ভোগান্তির কথা জানা গেছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকের মুখ থেকে। বিশেষজ্ঞ মহল প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে ডিজিটাল সিস্টেম চালুর উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকদের সেবার মান উন্নত করা, সেখানে এই ডিজিটাল হয়রানি কেন?
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫ লাখ প্রি-পেইড মিটার গ্রাহক রয়েছেন। বিদ্যুতের ট্যারিফ পরিবর্তনের কারণে প্রথমবার রিচার্জের সময় টোকেন নম্বরের ডিজিট সংখ্যা বেশি আসছে। পরবর্তী রিচার্জের সময় আগের মতোই ২০ ডিজিট সংখ্যা আসবে। কর্মকর্তারা আরো জানান, দীর্ঘ টোকেন নম্বর প্রবেশ করতে গিয়ে কোনো গ্রাহক সমস্যায় পড়লে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা সরাসরি সহযোগিতা করছেন।
এদিকে ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রযুক্তির আধুনিকায়নের যুগে এই অভ্যন্তরীণ জটিলতার দায় কেন সাধারণ গ্রাহকের কাঁধে চাপানো হবে? এ ছাড়া সিস্টেম আপডেট বা ট্যারিফ পরিবর্তনের কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভার থেকেই মিটারে আপডেট হওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তা না করে গ্রাহককে ২০০ বার বোতাম চেপে সেই কাজ করতে বাধ্য করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
বলা হচ্ছে, আমরা ক্যাশলেস সোসাইটি এবং পুরোপুরি ডিজিটাল দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, সেখানে ১৮০ বা ২০০ ডিজিট চেপে বিদ্যুৎ রিচার্জ করার এই ব্যবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিদ্যুৎ একটি অতি জরুরি সেবা। এই সেবাকে সহজলভ্য ও গ্রাহকবান্ধব করা সংশ্লিষ্টদের অন্যতম দায়িত্ব।
আমরা মনে করি, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও বিতরণ কম্পানিগুলো অতি দ্রুত এই কারিগরি ত্রুটি ও জটিলতা দূর করে গ্রাহকদের অনাকাঙ্ক্ষিত ডিজিটাল ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কাম্য।

