kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

রপ্তানি বাণিজ্যে আশা

নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনার অভিঘাতে সারা বিশ্বেই ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা ভাব দেখা দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে যেমন, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখনো বিমান পরিবহন স্বাভাবিক হয়নি। সব কিছুতেই অচলাবস্থা দেখা দিয়েছিল। এই করোনাকালে নানা প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে কিছুটা হলেও দেখা দিয়েছে আশার আলো। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিসটিক্যাল রিভিউ ২০২১’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৩৯তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়। এ অঞ্চলে ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩২তম পণ্য আমদানিকারক দেশ। গত বছর পণ্য আমদানি হয় ৫২ বিলিয়ন ডলারের। আগের বছরের চেয়ে আমদানি কমে ১১ শতাংশ। বৈশ্বিক অংশীদারি ০.৪ শতাংশ। পণ্য আমদানিতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম স্থানে রয়েছে ভারত, দ্বিতীয় বাংলাদেশ এবং তৃতীয় স্থানে পাকিস্তান। এই সঙ্গে রয়েছে আরেকটি খবর। এই করোনাকালে বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে টপকে একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে চলে গেছে। আর বাংলাদেশ নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। আবার রপ্তানির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির হিস্যাও কমেছে বাংলাদেশের। ২০১৯ সালে বিশ্বে যত পোশাক রপ্তানি হয় তার মধ্যে ৬.৮ শতাংশ ছিল বাংলাদেশি। গত বছর সেটি কমে ৬.৩ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে ভিয়েতনামের বাজার হিস্যা গত বছর ৬.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

তার পরও আমরা আশাবাদী হতে চাই। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে দেশ এগিয়ে চলেছে, এটা আমাদের জন্য স্বস্তিকর ও আনন্দদায়ক। প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী। আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ক্রমান্বয়ে ভারসাম্য আসছে। এখন আমাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ যত বাড়বে, রপ্তানির পরিমাণও তত বাড়তে থাকবে।

আমাদের আশা, রপ্তানির এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। ব্যাংকঋণসহ পুঁজির জোগান সহজলভ্য করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। সর্বোপরি বাজার বিস্তৃত করা ও নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা