kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

উপকূলে সুপেয় পানির সংকট

সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে

৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ক্রমেই সাগরের নোনা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার মানুষের পানীয়জলের সংকট ক্রমে তীব্রতর হচ্ছে। চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ভূগর্ভেও নোনা পানির অনুপ্রবেশ বাড়ছে। দেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত চলে এসেছে নোনা পানি। অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলে চলছে মরুকরণ প্রক্রিয়া। ভূগর্ভে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নামছে। অনেক জায়গায় গভীর নলকূপেও পানি উঠছে না। দেশের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলেও সুপেয় পানির সংকট তীব্র হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে লবণাক্ততা বেড়ে নষ্ট হচ্ছে মিষ্টি পানির আধার। সুপেয় পানির অভাবে কলেরা, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ইত্যাদির মতো জীবনবিনাশী পানিবাহিত রোগেরও দ্রুত বিস্তার ঘটছে। আবার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে এসব এলাকার সুপেয় পানির উৎসস্থল পুকুরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় নলকূপ ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে খাবার পানির তীব্র সংকট।    

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘উপকূলের জল বেদনা’ তিন দিনের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলের মানুষের মুখে সুপেয় পানি তুলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা নোনা পানির এই জনপদে বছর বছর চালু করে নিত্যনতুন প্রকল্প। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন দাতা সংস্থার টাকায় এনজিওগুলো উপকূলবাসীকে সুপেয় পানি বিতরণের নানা প্রকল্প হাতে নেয়। সরকারি অনুমোদনের পর তারা প্রকল্পের প্রযুক্তি বসিয়ে দেয় কারো বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। কাজ শেষে এর কয়েকটি বুঝিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার বা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে; আর বেশির ভাগই গছিয়ে দেয় সুফলভোগীদের ঘাড়ে। নামমাত্র কমিটি করে প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণের ভার দিয়ে আসে কয়েকজন ব্যক্তির ওপর। এসব আয়োজনের কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা থাকে না। পানি বিক্রির টাকা আর এর-ওর কাছ থেকে চাঁদা তুলে জোড়াতালি দিয়ে চলতে থাকে প্রকল্প। গতি হারালে প্রকল্পের সুফলভোগীরা জলকষ্টে পড়ে।

তিন বছর আগে ইউনিসেফের এক গবেষণা জরিপে বলা হয়, নিরাপদ উৎস থেকে পানি সংগ্রহের সুযোগ নেই এমন ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উপকূলীয় অঞ্চলে কাজ করা সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক দশক ধরে পানি-প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। ভূ-উপরিস্থিত পানির আধার নষ্ট হয়েছে। পানির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় না নিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলো কোনো কাজে আসেনি। তাঁদের মতে, পানি-প্রতিবেশ বিবেচনায় রেখে স্থায়ীভাবে সংকট নিরসনের জন্য সামগ্রিক ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা