kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

কঠোর লকডাউন শুরু

নিজের স্বার্থেই সবাইকে মেনে চলতে হবে

২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কঠোর লকডাউন শুরু

দেশে করোনা সংক্রমণের পর প্রায় দেড় বছর পার হয়েছে। এর মধ্যে ভাইরাসের বিস্তার রোধে লকডাউনসহ অনেক কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু এযাবৎ কালের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর লকডাউন আরোপিত হয়েছে গতকাল শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে। মেয়াদ আর না বাড়ালে এই লকডাউন চলবে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত। এতে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসহ সব ধরনের শিল্প-কারখানা। সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি ফেরিতেও যাত্রী বহনকারী যানবাহন পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়নে সরকার ২৩ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে রয়েছে বিজিবি ও সেনাবাহিনী। আশা করা যায়, এই লকডাউনের ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণের গতি কিছুটা হলেও কমানো যাবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানুষ সচেতন হলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এত কঠোর লকডাউনের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, করোনার এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও বহু মানুষের আচরণে ন্যূনতম সচেতনতা পরিলক্ষিত হয় না। পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে এক সপ্তাহের মতো লকডাউন শিথিল করা হয়েছিল। তখন আমরা দেখেছি, মানুষের আচরণ কতটা বেপরোয়া ছিল। যানবাহন, মার্কেট, হাট-বাজারে ছিল মানুষের গাদাগাদি ভিড়। সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা, মুখে মাস্ক পরায়ও ছিল অনেকের চরম অনীহা। এসব কারণে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সংক্রমণ আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে কঠোর লকডাউন আরোপ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছিল। তার পরও সংক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচানোর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে বাঁচাতে আমাদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

করোনায় সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকার নানাভাবে প্রণোদনা দিয়ে সেই ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিল। এরই মধ্যে আরো বেশি ভয়ংকর রূপে ফিরে এসেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য মূলত দায়ী যে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট, তা প্রতিবেশী দেশ ভারতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। আমরা যথেষ্ট সাবধান না হলে আমাদের পরিস্থিতিও একই রকম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবারও কঠোর লকডাউনের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আমাদের এই সাময়িক ক্ষতি মেনে নিতেই হবে। এটা ঠিক, আগে থেকেই ধুঁকতে থাকা অনেক শিল্প-কারখানা আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যে ক্ষয়ক্ষতি হবে, অনেক উদ্যোক্তার পক্ষেই তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠবে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। সরকারকে সেসব দিকে লক্ষ রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।



সাতদিনের সেরা