kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

কেউ ঠিকানাহীন থাকবে না

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়িত হোক

২২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




কেউ ঠিকানাহীন থাকবে না

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও এ দেশে অনেক মানুষের ঘর নেই। ঝড়বৃষ্টিতেও খোলা আকাশের নিচে তাদের রাত কাটাতে হয়। এর চেয়ে দুঃখের, এর চেয়ে লজ্জার আর কী থাকতে পারে! সেই লজ্জা দূর করার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত রবিবার ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবারকে দুই শতক জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এর আগে গত জানুয়ারিতে ৬৯ হাজার ৯০৪টি পরিবারকে একইভাবে ঘর দিয়েছিলেন তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেন, দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন সবাই ঘর ও জমি পাবে। কাউকেই ঠিকানাবিহীন রাখা হবে না। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা মানে ভোগবিলাস নয়। ক্ষমতা হলো মানুষের সেবা করা। মানুষের জন্য কাজ করা।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে রাষ্ট্রীয় অনেক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে করোনা মহামারির কারণে। কিন্তু মুজিববর্ষে বাংলাদেশে গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এর চেয়ে বড় উৎসব আর কী হতে পারে? যাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না, উন্নত মানের একেকটি ঘর পেয়ে তাঁদের অনেকেই অশ্রুসংবরণ করতে পারেননি। আনন্দাশ্রু বিসর্জন করতে করতেই তাঁরা বঙ্গবন্ধুকন্যার জন্য দুই হাত তুলে প্রার্থনা করতে থাকেন। জন্মশতবর্ষে এর চেয়ে বড় কোনো উৎসবের কথা ভাবা যায় কি? জাতির পিতা এ দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। তিনি গৃহহীন-ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বিতরণ এবং ‘গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্প শুরু করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে ঘাতকদের বুলেট সেই সব উদ্যোগ থামিয়ে দিয়েছিল। এরপর দেশে শুরু হয়েছিল ভোগের রাজনীতি, লুটপাটের রাজনীতি। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আদলে শুরু হয় ‘আশ্রয়ণ’ প্রকল্প। শুরু হয় আবার গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর ও জমির বরাদ্দ দেওয়া। প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তাত্ক্ষণিকভাবে ঘরসহ জমির দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সেমিপাকা ঘরে রয়েছে দুটি রুম, একটি বড় বারান্দা, রান্নাঘর ও টয়লেট। পাশাপাশি রয়েছে সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। মানুষের মাথাপিছু বার্ষিক আয় ২২০০ ডলার ছাড়িয়েছে। দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। প্রায় শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। এই অবস্থায় কিছু মানুষ গৃহহীন থাকাটা পুরো জাতির জন্য লজ্জাকর। মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না বলে প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা তার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, এটাই হবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর সর্বোত্তম উৎসব।

 



সাতদিনের সেরা