kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

অপ্রতিরোধ্য মুদ্রাপাচার

নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিন

৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী বৈধ আর্থিক লেনদেন যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে অবৈধ লেনদেনও। সুইজারল্যান্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মুদ্রাপাচার বেড়েছে ২০ শতাংশ, পাচার হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম প্রকল্পের আওতায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেখানে বাড়ি কিনেছে। কানাডার বেগমপাড়ায় অনেক বাংলাদেশির বাড়ি রয়েছে। বাড়ি রয়েছে আমেরিকাসহ অনেক উন্নত দেশে। তাদের কয়জন বৈধ উপার্জন দিয়ে এসব করেছে, কয়জন মুদ্রাপাচারের মাধ্যমে করেছে, তা আমাদের জানা নেই। মুদ্রাপাচার নিয়ন্ত্রণে আমাদের গৃহীত ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। তাই মুদ্রাপাচার রোধ করা যাচ্ছে না। সোমবার জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় বিভিন্ন খাতে চলমান অনিয়ম-দুর্নীতি এবং কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার রোধে সরকারের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করা হয়। জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আন্ডারইনভয়েসিং ও ওভারইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে পাচার হচ্ছে না, তা বলব না। তবে তা আগের চেয়ে কমেছে। তিনি বিরোধী সংসদ সদস্যদের প্রতি সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, ‘এগুলো বন্ধের জন্য আগামী ১২ মাসের মধ্যে ১৫টি আইন দেখতে পাবেন। অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, অকার্যকর সিস্টেমের জন্য এগুলো হয়। আমরা সংস্কারমুখী কাজ করব। নতুন নতুন আইন করব। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে দায় নিয়ে কাজ করতে পারে, সে ব্যবস্থা করে দেব। এখানে কোনো টলারেন্স নেই।’

অর্থপাচার রোধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষায়িত শাখা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা শাখাসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। এর মধ্যে দুদকের কিছু প্রচেষ্টা চোখে পড়লেও অন্যদের বিশেষ কোনো ভূমিকা আছে বলে মনে হয় না। তাদের দক্ষতা নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। ফলে অর্থপাচারও কমছে না। আমাদের প্রতিবেশী অনেক দেশই মুদ্রাপাচার রোধে যথেষ্ট সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে। ভারতে ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে মাত্র এক বছরে মুদ্রাপাচার অর্ধেকে নেমেছে। নেপালে চার ভাগের এক ভাগে নেমেছে। আমাদের না পারার কারণগুলো নীতিনির্ধারকদের খুঁজে বের করতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের তালিকায় একসময় শীর্ষে ছিলেন রাজনীতিবিদরা। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজনীতিবিদদের ছাড়িয়ে গেছেন ব্যবসায়ীরা, যাঁরা সরকারের দেওয়া প্রচুর সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যবসা করেন। পাচারের তালিকায় এরপরই রয়েছেন দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তারা। উন্নয়নকে গতিশীল ও টেকসই করতে হলে এদের রুখতেই হবে।