kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

গাছ কেটে উন্নয়ন

বিকল্প ব্যবস্থায়ও ফুড কোর্ট হতে পারে

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সৌন্দর্য বাড়ানোর প্রকল্পে হাঁটার পথ, গাড়ি রাখার স্থান ও রেস্তোরাঁ বানাতে বেশ কিছু গাছ কাটা পড়ছে। কিছু গাছ এরই মধ্যে কাটা হয়ে গেছে, আর কাটার জন্য কিছু গাছ চিহ্নিত করা হয়েছে। সৌন্দর্য বাড়ানোর নামে প্রকৃতি ধ্বংসের এই পরিকল্পনা বাতিলের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গগনচুম্বী গগনশিরীষ, সেগুন, মেহগনিসহ শতাধিক গাছ এরই মধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি শতবর্ষী গাছও রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকেও গাছ কাটার বিষয়ে দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কিছু গাছ কাটা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে উদ্যানে এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা প্রকল্পের দুটি পর্যায়ে ১৯৯৮ সাল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গ্লাস টাওয়ার, শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতা জাদুঘর, ফোয়ারা, জলাধার ও উন্মুক্ত মঞ্চ এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। এবার প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক ঢাকার বিরল ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সবুজ অঞ্চল। এ অঞ্চলে গাছ কেটে রেস্টুরেন্ট ও স্থাপনা নির্মাণ ভয়ংকর রকমের অপরাধ। যারা ঢালাওভাবে গাছ কেটে স্থাপনা নির্মাণ করে, তাদের কঠোরভাবে অনুশাসনে আনা প্রয়োজন।

রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঢাকার টিকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সবুজবলয়ের একটি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্থানটির নামকরণ করেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বাঙালির জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর এ উদ্যানেই আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে এই ময়দানেই জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা করেছিলেন জাতির পিতা। এই সবুজবলয় আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এই ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্বও তো আমাদের। ফুড কর্নার বা ফুড কোর্ট নির্মাণ করতে চাইলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ভূগর্ভ বেছে নেওয়া যেতে পারে। তাতে উদ্যানটির বাণিজ্যিকায়ন বন্ধ হবে। এই উদ্যানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা চিন্তা করেই স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে এক পাশে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি নির্মিত হয়েছে মাটির তলায়। তাহলে ফুড কোর্ট কেন গাছ কেটে করতে হবে?