kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

ফোর্বসের তালিকায় বাংলাদেশি

স্বপ্ন দেখাচ্ছে উদ্যমী তারুণ্য

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মহামারিতে দেশের জন্য অন্য রকম এক আনন্দের সংবাদ পাওয়া গেছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের ষষ্ঠবারের মতো প্রকাশ করা ‘ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া’ তালিকায় প্রথমবারের মতো স্থান পেয়েছেন ৯ বাংলাদেশি তরুণ। এই প্রথম মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের বাছাইয়ে একসঙ্গে বাংলাদেশের এতজন জায়গা পেলেন।

উদ্ভাবনী ধারণা আর উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ৩০ বছরের কম বয়সী যে তরুণরা এশিয়ার দেশগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছেন, তাঁদের নিয়ে ২০১১ সাল থেকে এ তালিকা প্রকাশ করছে ফোর্বস। এ বছরের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন রিটেইল অ্যান্ড ই-কমার্স ক্যাটাগরি। এই ক্যাটাগরিতে স্থান করে নিয়েছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম পিকাবো। এই প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের তরুণ মোরিন তালুকদার। প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে সেরাদের তালিকায় বাংলাদেশের যে তিনটি উদ্যোগ স্থান পেয়েছে তার একটি হলো ‘গেজ’। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক এই স্টার্টআপ উদ্যোগের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন শেহজাদ নূর তাওস প্রিয় ও মোতাসিম বীর রহমান। প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে সেরার তালিকায় থাকা আরেকটি বাংলাদেশি কম্পানি ক্র্যামস্ট্যাকের প্রতিষ্ঠাতা মীর সাকিব। নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে কাজ করছে ঢাকাভিত্তিক উদ্যোগ হাইড্রোকুয়োপ্লাস। এই স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করছেন রিজওয়ানা হৃদিতা ও জাহিন রোহান রাজিন। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানির গুণগত মান যাচাই-বাছাই করে বিভিন্ন সরকারি ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে তাঁরা সেবা দিচ্ছেন। সামাজিক প্রভাব ক্যাটাগরিতে সেরার তালিকায় স্থান পেয়েছে অ্যাওয়ারনেস থ্রিসিক্সটির সহপ্রতিষ্ঠাতা শমী চৌধুরী ও রিজভী আরেফিন। কুয়ালালামপুরভিত্তিক সেবামূলক এনজিওটি তরুণদের সংগঠিত করে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে। ২৩টি দেশে তাদের দেড় হাজার ভলান্টিয়ার রয়েছে, যারা বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায়। একই ক্যাটাগরিতে সেরার তালিকায় স্থান পাওয়া আরেক বাংলাদেশি উদ্যোগ অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন। আহমেদ ইমতিয়াজ জামি ২০১০ সালে এটি গড়ে তোলেন। তিনি দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, মানবাধিকার ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করছেন। ফাউন্ডেশনটি ১০ লাখের বেশি মানুষকে সহায়তা দিয়েছে এবং ৫০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। নিজস্ব স্কুল ও অনুদান কর্মসূচিও রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি করোনাভাইরাস মহামারিতেও কাজ করছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন।

এবারের তালিকা নিয়ে ফোর্বস বলেছে, মহামারির মধ্যেও থেমে নেই উদ্যোগ ও উদ্যম। মহামারির দিন শেষে নতুন দিনের প্রত্যাশায় ‘নিও নরমালের’ এ সময়ে তালিকায় স্থান পাওয়া উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, অ্যাকটিভিস্ট ও তরুণ নেতারা কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশও স্বপ্ন দেখছে। এই তরুণদের হাত ধরেই আগামীর বাংলাদেশের ছবি বদলে যাবে।