kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

৩৬ লাখ পরিবারকে সহায়তা

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করুন

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




৩৬ লাখ পরিবারকে সহায়তা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তিন দিন ধরে দৈনিক মৃতের সংখ্যা শতাধিক। এমন পরিস্থিতিতে সরকার দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছে। এমনিতে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা করোনা মহামারিতে নিম্ন আয়ের মানুষ কঠিন দুঃসময় পার করছে। তার ওপর লকডাউনের কারণে অনেকের জীবিকা উপার্জনের সামান্য পথটুকুও বন্ধ হয়ে গেছে। এমন সময়ে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো আঘাত হেনেছে কালবৈশাখী। গত ৪ এপ্রিলের ঝোড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে দেশের ৩৬ জেলায় ১০ হাজার ৩০১ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ এবং ৫৯ হাজার ৩২৬ হেক্টর ফসলি জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তরের হিসাবে, এতে প্রায় এক লাখ কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিম্ন আয়ের প্রায় ৩৫ লাখ পরিবার এবং সাম্প্রতিক সময়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক লাখ কৃষকসহ ৩৬ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। নিম্ন আয়ের প্রতিটি পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিতে সরকারের খরচ হবে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

করোনা মহামারির কারণে সারা বিশ্বেই এক বিপর্যয়কর অবস্থা চলছে। দেশেও সাধারণ ছুটি, লকডাউন ও বিধি-নিষেধের কারণে উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বহু শ্রমিক বেকার হয়েছে। শুধু গণপরিবহন বন্ধ হওয়ায় ৭০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন ছোটখাটো কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, দিনমজুর, হকারসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। পর্যাপ্ত খাদ্য বা অর্থ সাহায্য ছাড়া পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁদের বেঁচে থাকাই কঠিন হবে। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী অর্থ সাহায্যের যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে এই ৩৬ লাখ পরিবার। এর আগেও সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার এমন সহায়তা করা হয়েছে। ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এক কোটি পরিবার তথা প্রায় পাঁচ কোটি মানুষকে খাদ্য সাহায্যের আওতায় আনার জন্য রেশন কার্ড বিতরণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে সরকার একাই লড়ে যাচ্ছে। এমন জাতীয় দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এনজিওগুলোর নিষ্ক্রিয়তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ব্যবসায়ীদের বড় বড় সংগঠন এবং বড় বড় শিল্প গ্রুপকেও এ সময় দুস্থ মানবতার পাশে দাঁড়াতে হবে।

করোনা মহামারিতে বিশ্বে এরই মধ্যে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ১৪ কোটি মানুষ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা আশঙ্কা করছে, খাদ্যাভাবেও বহু মানুষ মারা যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আর্তমানবতার পাশে দাঁড়ানো সক্ষম সব মানুষের দায়িত্ব। এই দুর্যোগ কবে শেষ হবে কেউ জানে না। তাই আরো দুর্যোগময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকারকে তৈরি থাকতে হবে।