kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

আসছে নতুন বাজেট

করোনার প্রভাব মোকাবেলায় জোর দিতে হবে

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসছে নতুন বাজেট

করোনা মহামারিতে দেশের অর্থনীতি কঠিন সংকট মোকাবেলা করছে। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে মন্দা। কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাপকভাবে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও কাজ হারিয়ে ফিরে এসেছে বহু বাংলাদেশি। এরই মধ্যে আগামী জুনে আসছে নতুন বাজেট। এরই মধ্যে বাজেটের খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। চলছে প্রাক-বাজেট আলোচনা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজসহ (এমসিসিআই) পাঁচ শতাধিক সংগঠনের সঙ্গে ৭০টির বেশি প্রাক-বাজেট বৈঠক করেছে এনবিআর। ব্যবসায়ী সংগঠনের পাশাপাশি অর্থনীতি বিশ্লেষক এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছে এনবিআর। এসব আলোচনায় উঠে আসা সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলেছে বাজেট প্রণয়নের কাজ। জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছর থেকে এই বাজেটের আকার হবে ২৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা বেশি। নতুন বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হবে অর্থনীতিকে করোনা-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনা। সে কারণে নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং দেশি শিল্প খাতগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো ও বিনিয়োগ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

করোনার বৈশ্বিক মহামারির কবলে পড়ে উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিরও বিপর্যস্ত অবস্থা। উন্নত দেশগুলো আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টশিল্প নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরেকটি প্রধান খাত রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি শ্রমিকরা যেসব দেশে বেশি যায়, সে দেশগুলোও অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। অনেক দেশ শ্রমিক নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। অনেক দেশ সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে। দেশেও অনেক কারখানা ও শিল্পে মন্দাবস্থা বিরাজ করায় শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় রীতিমতো ধস নেমেছে। ফলে বেকারত্ব ক্রমেই আকাশছোঁয়া হচ্ছে। প্রান্তিক বা নিম্ন আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশে দারিদ্র্যের হার আবার বেড়ে যেতে পারে। তাই আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। সংকটে থাকা শিল্প-কারখানা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মহামারির এই সময়ে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকতে হবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এবারের বাজেট হতে হবে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই বাজেটের আকার নির্ধারণ করতে হবে। ব্যয়ের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। সেই ব্যয় নির্বাহের জন্য আয় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কর বৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক হবে না। সে ক্ষেত্রে করের আওতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরকে দক্ষ, গতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। আমরা আশা করি, আসন্ন বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।