kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

বেড়েছে মূল্যস্ফীতি

বাজারে নজরদারি বাড়াতে হবে

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেড়েছে মূল্যস্ফীতি

উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এই উন্নয়ন অভিযাত্রায় বড় বড় বাধা মূল্যস্ফীতি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিভাগের এক প্রতিবেদনে দেখা যায় গত জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫.৩২ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৫.০২ শতাংশ। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক বছরের চলন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার হয়েছে ৫.৬৩ শতাংশ। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই হার ছিল ৫.৬০ শতাংশ। সোজা হিসেবে বাজারে জিনিসের দাম বেড়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরেও চলে গেছে। মূল্যস্ফীতি বাজারকে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী করছে। ২০২০ সালের বেশির ভাগ সময় খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকায় গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৫.৬৯ শতাংশে, যা ছিল গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

মূল্যস্ফীতি রোধে সরকারকে সবার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে যখন রোজার মাস আসছে। রমজানে ভোগ্যপণ্যের বাজার অসহনীয় হয়ে পড়ে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিলে বাজারে একটা অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণটিও স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের পাশাপাশি অতিরিক্ত মজুদকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় প্রভৃতি কারণে প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসের আগে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। এটা প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, যা আমাদের এখানে হয় না।

এরই মধ্যে রোজা আসছে। রোজার মাসে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতাও দেখা যায় প্রতিবছর। বাজার সহনীয় সরকার কিছু ব্যবস্থা যে নেয় না, তা নয়। এবারও রোজার আগে টিসিবির ট্রাক বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্য বিক্রি করছে। রোজায় ভোজ্য তেলের দাম সহনীয় রাখতে আমদানীকৃত অপরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পাম তেলের ওপর ৪ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। কিন্তু এর কোনো প্রভাব কি বাজারে পড়বে বা পড়ে?

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি খেয়ে ফেলছে জমানো টাকার লাভ। বর্তমান মূল্যস্ফীতির হার বিবেচনায় আমানতের সুদ হার অনেক কম। এর ফলে সাধারণ আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার আমানতের মুনাফায় উৎস কর ও আসলের ওপর আবগারি শুল্ক কাটা হচ্ছে। এতে সাধারণ আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি রোধে মুদ্রাস্ফীতিকেও আর্থিক লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখার জন্য সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।

যেকোনো মূল্যে মূল্যস্ফীতি রোধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।