kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন

সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন

উন্নয়নশীল আটটি দেশের জোট ডি-৮-এর দশম শীর্ষ সম্মেলনে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগ বৃদ্ধির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সম্মত হয়েছে সদস্য দেশগুলো। বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ সম্মেলনে ‘ঢাকা ঘোষণা-২০২১’ এবং ডি-৮ দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে আগামী ১০ বছরের রূপরেখা গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনে ডি-৮-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছেন।

আধুনিক বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার জন্য জোটবদ্ধ প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। উন্নত দেশগুলোও নানাভাবে জোটবদ্ধ। সেসব জোটের কৌশলগত অবস্থান মেনে নিয়েই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এগোতে হয়। এ ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বর্তমান জোট ডি-৮-এর সামনে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। আটটি দেশের এই জোট পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের উন্নয়নকে আরো গতিশীল করতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায়ও এই জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই জোটে রয়েছে বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসা-বাণিজ্য, যুব উন্নয়ন, তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। এ সময় তিনি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিরও আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মুদ্রার ঝুঁকি থেকে আমাদের দেশগুলোকে রক্ষায় স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের ওপর জোর দেওয়া অপরিহার্য।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত সংকট মোকাবেলায় একটি কৌশল নির্ধারণে ডি-৮-এর প্রতি আহ্বান জানান। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি একটি ন্যায্য, বৈষম্যহীন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেন। ডি-৮ দেশগুলোতে যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগের ব্যাপারেও তিনি আগ্রহ দেখান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ইন্টারনেটভিত্তিক বাণিজ্যের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেটই হবে আগামী দিনে অর্থনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সম্মেলনে ৩৮ দফা যৌথ ঘোষণায় করোনা মহামারি ও এর প্রভাব মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইরানে ডি-৮ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সদস্য দেশগুলো।

পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হলে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। একই সঙ্গে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ১০ বছর মেয়াদি যে রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে তারও পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।



সাতদিনের সেরা