• ই-পেপার

ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন

  • সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় দুরবস্থা

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে

দেশে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম যারপরনাই হতাশাজনক। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় একই অবস্থা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর অন্যতম কারণ আর্থিক বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল। কিন্তু এটিও দেখা গেছে, যেটুকু বরাদ্দ রয়েছে, সেটুকুও যথাযথ ব্যবহৃত হচ্ছে না। আবার যেসব গবেষণা হচ্ছে, তার সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা নেই, নেই কর্মবাজারের সঙ্গে সংগতি। বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় এসব গবেষণার ফল তেমন কাজেও আসছে না।

দেশে এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৫ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৬। মোট ১৭১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান। গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, ১৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যয় দুই কোটি টাকার নিচে। সরকারি ৩৩টি এবং বেসরকারি ৯৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ব্যয়ের চিত্র খুবই করুণ। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা নিজেদের পদোন্নতির জন্য যেনতেনভাবে গবেষণাপত্র জমা দিচ্ছেন। অনেক গবেষণায় বড় ধরনের চৌর্যবৃত্তির অভিযোগও পাওয়া গেছে। এই হলো মোটাদাগে সার্বিক পরিস্থিতি। তবে এসবের ভিড়ে মানসম্মত গবেষণা যে একেবারেই নেই, তা নয়। কিন্তু সেই সংখ্যা অতি নগণ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ব্যয় নিয়ে ইউজিসি সর্বশেষ ২০২৩ সালে তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, সরকারি ৫৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যয় ছিল ১২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যয় করেছে, ১৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০২৩ সালে বেসরকারি ১১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যয় ছিল ১৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় একাই ব্যয় করেছে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এই গবেষণা ব্যয় অনেক কম। এসব কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম কোনো র‌্যাংকিংয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না।

ইউনেসকোর পরামর্শ হলো, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা প্রয়োজন। সেখানে বাংলাদেশে ব্যয় করা হচ্ছে মাত্র ১.৫৩ শতাংশ। আবার যে পরিমাণ বরাদ্দ থাকে, তারও বেশির ভাগ ব্যয় হয় অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষক-কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ। সেই তুলনায় গবেষণায় নামমাত্র বরাদ্দ থাকে। এত অল্প বরাদ্দে মানসম্পন্ন গবেষণা কার্যক্রম প্রায় অসম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয় হলো নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার সূতিকাগার। এর প্রাণভোমরা হলো মৌলিক ও ফলিত গবেষণা। কাজেই আমাদের উচ্চশিক্ষার মান উন্নত করতে হলে অবশ্যই গবেষণা খাতে ব্যয় ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে জিডিপির একটি নির্দিষ্ট অংশ গবেষণার জন্য সুনির্দিষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নানা অনিয়ম রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিম্নবিত্তদের দুর্ভোগ চরমে উঠবে

নতুন খড়্গ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি

নিম্নবিত্তদের দুর্ভোগ চরমে উঠবে

মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ রীতিমতো দিশাহারা। প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় তাদের আয় বাড়ছে না। ফলে সংসার চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্থির আয়ের মানুষ, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এই পর্যায়ে নতুন খড়্গ হয়ে এসেছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু বিদ্যুতের বিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যেরই দাম বেড়ে যাবে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম আরো কঠিনই হবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত বুধবার পাইকারি ও খুচরাউভয় পর্যায়ে দাম বাড়ানোর এই ঘোষণা দিয়েছে। খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ১৬.৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সঞ্চালন (ট্রান্সমিশন) চার্জ ২৩.৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের বিল থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে। বিইআরসি জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুতের নতুন দাম অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ০ থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যমান দাম বহাল থাকবে, অর্থাৎ এই ধাপে কোনো দাম বাড়বে না। দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দাম ৭.২০ টাকা থেকে ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে ৮.৫০ টাকা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দাম ৭.৫৯ টাকা থেকে ১৯.৮৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৯.১০ টাকা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের বিদ্যমান দাম ৮.০২ টাকা থেকে ১৯.৯৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৯.৬২ টাকা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দাম ১২.৬৭ টাকা থেকে ১৮.৪৬ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫.০১ টাকা এবং সর্বশেষ ধাপ ৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান দাম ১৪.৬১ টাকা থেকে ১৮.৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৭.৩৫ টাকা করা হয়েছে।

সরকার ভর্তুকি কমানোর কথা বললেও তা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম কালের কণ্ঠকে বলেন, শুধু বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে নয়, উৎপাদন ব্যয় কমিয়েও ভর্তুকি হ্রাস করা সম্ভব। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় কোথায় অদক্ষতা রয়েছে, কিভাবে উৎপাদন খরচ কমানো যায় এবং বিদ্যুৎ খাতের পরিচালনায় কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজনএসব বিষয় আগে গুরুত্বসহকারে মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি বলেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর প্রভাব পড়বে সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও গৃহস্থালি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে, যার চূড়ান্ত প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়বে। ফলে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জ কমানোর পরিবর্তে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো হয়েছে, যা দুঃখজনক।

আমরা মনে করি, গ্রাহকদের, বিশেষ করে প্রান্তিক গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরুক

ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরা

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরুক

ঢাকার রাস্তায় অনিয়মের শেষ নেই। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, বেআইনিভাবে লেন পরিবর্তন, জেব্রা ক্রসিং দখল, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোসহ বহু অনিয়ম এখানে নিত্যদিনের চিত্র। পরিস্থিতি এমন, চিরচেনা এই শহরে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক নগরায়ণের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে এর সফল বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত সড়কে এরই মধ্যে ১২০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শিগগির আরো ৪০০ এআই ক্যামেরা বসানো হবে। জানা গেছে, ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। বর্তমানে ১১০টি ক্যামেরা থেকে ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করে এগুলো এআই দিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দেখা গেছে, অনেক অনিয়ম শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এসব ক্যামেরা। নিয়ম অমান্য করলে জরিমানাসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হতে না হতেই এটি ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে। এক মোটরসাইকেলচালককে নাম্বার প্লেট ঢেকে চলাচল করতে দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই চালককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন প্রযুক্তি চালুর পর সেটি ফাঁকি দেওয়ার নানা চেষ্টা হতে পারে। এসব রোধে বিশেষ অভিযান চলবে বলে জানান তিনি। এআই ক্যামেরার সুফল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

এআই ক্যামেরা অনেক বেশি নিখুঁত ও স্বয়ংক্রিয়। বলা বাহুল্য, এর সংযোজন প্রচলিত ট্রাফিক ব্যবস্থায় নতুন সক্ষমতা যোগ করবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞমহল বলছে, ঢাকার সড়ক কি নতুন এই প্রযুক্তির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত? এআই ক্যামেরা সঠিকভাবে কাজ করার জন্য রাস্তায় সুনির্দিষ্ট লেন, জেব্রা ক্রসিং এবং রোড সাইন স্পষ্ট থাকা জরুরি, যা ঢাকার বেশির ভাগ সড়কেই নেই। অনেক গাড়িতে ডিজিটাল নাম্বার প্লেট নেই, অনেক ভুয়া নম্বর ব্যবহারের নজিরও রয়েছে। এতে দেখা যাবে, অপরাধ করবে একজন, আর এআই জরিমানা পাঠাবে আরেকজনের কাছে।

শুধু এআই ক্যামেরা বসানোই যথেষ্ট নয়, নতুন প্রযুক্তির সুফল পেতে হলে এর সফল বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। এ লক্ষ্যে সুসমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস, বাড়ছে খেলাপি ঋণ

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে দেশের অর্থনীতি রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এ সময়ে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো গণহারে চাঁদাবাজি ও হামলার শিকার হতে থাকে। জ্বালাও-পোড়াও, মব সন্ত্রাস বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে। সেই সঙ্গে চলতে থাকে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের নানাভাবে হয়রানি করা। মামলা, অ্যাকাউন্ট জব্দ, বিদেশযাত্রায় বাধাসহ নানা কারণে উদ্যোক্তারা হতাশ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে ঋণের উচ্চ সুদের হার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, ডলার সংকট, আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ নানা কারণে ধুঁকতে থাকে ব্যবসা-বাণিজ্য। বৈশ্বিক পরিস্থিতিও নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমে আসে। ব্যবসা-বাণিজ্যে রীতিমতো ধস নামে। বহু কারখানা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। আর ব্যবসা-বাণিজ্যের এমন দুরবস্থার কারণে অনেক ঋণগ্রহীতাই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন। ফলে দ্রুত বাড়তে থাকে খেলাপি ঋণ।

ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও দুর্নীতির উচ্চমাত্রার প্রভাবে খেলাপি ঋণ অনেক বৃদ্ধি পায়। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। তারা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। আর অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে খেলাপি ঋণের উল্লম্ফন ঘটে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা ছাড়ে ২০২৬ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে। আর মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বাড়ে আরো ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে নানা ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে উচ্চ সুদের হার, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধ এবং আমাদের দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা অন্যতম। এত দিন কোনো নির্বাচিত সরকার ছিল না। তাই বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমেছে। অন্তর্বর্তী সরকার কোনো বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। তাই আমরা ব্যবসাও করতে পারিনি। বেসরকারি খাতকে সহায়তা না করে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের আরো ক্ষতি করেছে। তারা ছিল একটি ব্যবসাবিরোধী সরকার। শুধু বাণিজ্য খাত নয়, ওই সরকার ব্যাংকগুলোকে দুর্বল ঘোষণা করার মাধ্যমে পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, এখন নির্বাচিত সরকার এসেছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিনিয়োগ ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা আশাবাদী।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কঠোর কড়াকড়িতে বলতে গেলে ঋণই পাচ্ছেন না বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত থেকে বেসরকারি খাতের ঋণের এমন দুর্ভাগ্যজনক চিত্রই পাওয়া গেছে। গত মার্চ মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৭২ শতাংশে এসে ঠেকেছে। এটি গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ ব্যাংক দুই দশকের বেশি তথ্য সংরক্ষণ করে না। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাস্তবে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ঋণপ্রবাহ।

আমরা মনে করি, দ্রুততম সময়ে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা আশা করি, নির্বাচিত সরকার সেই লক্ষ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন | কালের কণ্ঠ