kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর

দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার হোক

৬ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ ও কার্যকর। আর তার সুবিধা পাচ্ছে উভয় দেশই। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলেছে উভয় দেশই। শুধু দুই দেশই নয়, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাও ক্রমে জোরদার হচ্ছে। বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, নেপাল) উপ-আঞ্চলিক জোট এখন অনেক বেশি কার্যকর। বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন বা বিমসটেকও ক্রমেই সহযোগিতার নতুন দিগন্ত হয়ে উঠছে। সংগত কারণেই নিকট-ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরসহ পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বড় পরিসরে কানেকটিভিটি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কানেকটিভিটি’ প্রক্রিয়ায় তাঁরা তৃতীয় দেশকেও যুক্ত করতে চান। এ ক্ষেত্রে তিনি জাপানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ওই দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশ, ভারত—দুই দেশেরই খুব ভালো সম্পর্ক আছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন সফর নিয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার এক দিনের ঝটিকা সফরে ঢাকায় এসে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে ভারতের সঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই সীমান্তসংক্রান্ত অনেক সমস্যাও রয়েছে। ছিটমহল বিনিময়, জল ও স্থল সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধসহ অনেক সমস্যারই সমাধান হয়েছে আলোচনার মাধ্যমে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে এখনো যেসব সমস্যা রয়ে গেছে, আলোচনার মাধ্যমেই সেগুলোর সমাধান হওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার বিকেলে ড. এস জয়শঙ্কর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। এমনি একটি সমস্যা হলো সীমান্তে হত্যা। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমস্যাটির কারণ দুই দেশেরই জানা আছে। তিনি বলেন, সীমান্তে অপরাধ বন্ধ করা গেলে মৃত্যুও বন্ধ করা যাবে। দুই দেশকেই এই লক্ষ্যে আরো কাজ করতে হবে। আমরা সঠিকভাবে এগোতে পারলে অবশ্যই এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করতে পারব। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. জয়শঙ্কর বলেন, ওই চুক্তি নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থান বদলায়নি। ভবিষ্যতে দুই দেশের পানিসম্পদসচিবরা বৈঠক করবেন। সেখানে অভিন্ন নদ-নদীগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে আরো আলোচনা হবে। ড. জয়শঙ্কর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পিত সফরের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি। এই সফর খুবই স্মরণীয় হবে, কারণ করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পরে ভারতের বাইরে তাঁর প্রথম এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সফর।’ আমরা জানি, ‘এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি বছর। কারণ উভয় দেশ মুজিববর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর পালন করছে।’

ভারত আমাদের সবচেয়ে কাছের এবং সবচেয়ে পরীক্ষিত বন্ধু। স্বাধীনতাযুদ্ধে রক্ত দিয়েও ভারত আমাদের পাশে থেকেছে। আমরা আশা করি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ক নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাবে।

 

মন্তব্য