kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

টিকা সংকটের আশঙ্কা

অন্য উৎস থেকেও সংগ্রহ করুন

২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিকা সংকটের আশঙ্কা

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ৩০ মার্চ খুলতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তার আগেই সব শিক্ষক ও ১৮ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে টিকার প্রাপ্তি নিয়ে। সারা পৃথিবীতেই টিকার সংকট রয়েছে। অনেক দেশ এখনো কোনো টিকা হাতে পায়নি। বাংলাদেশ ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৯০ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে। এর মধ্যে ৩০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়ে গেছে। নিবন্ধনের পর অপেক্ষায় আছে আরো প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। প্রতিদিনই দুই লাখের বেশি মানুষ নিবন্ধন করছেন। আবার এপ্রিলের ৭ তারিখে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া। ফলে এপ্রিলের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রয়োজন হবে আরো প্রায় দেড় কোটি ডোজ টিকা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে শিক্ষক ও ১৮-ঊর্ধ্ব শিক্ষার্থীদের জন্য আরো প্রায় ৬০ লাখ ডোজ টিকার দরকার হবে। টিকার সংকট রয়েছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটেও। তারা মার্চ মাসে কী পরিমাণ টিকা সরবরাহ করতে পারবে তা এখনো অজানা। কোভ্যাক্সের যে টিকা আসার কথা ছিল তা কবে আসবে সেটিও নিশ্চিত নয়। ফলে টিকার সংকট তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টিকার যে সংকট হতে পারে, তা আগে থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল। সে কারণে বিশেষজ্ঞরা অন্যান্য উৎস থেকেও টিকা সংগ্রহের তাগিদ দিয়ে আসছিলেন; কিন্তু সেরাম ইনস্টিটিউট ছাড়া আর কারো সঙ্গেই কোনো চুক্তি করা যায়নি। সেরামের সঙ্গেও রয়েছে মাত্র তিন কোটি ডোজ টিকার চুক্তি। অথচ আমাদের টিকার প্রয়োজন হবে প্রায় ২০ কোটি ডোজের। জানা গেছে, সেরাম ইনস্টিটিউট থেকেই আরো তিন কোটি ডোজ টিকা আনার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু সংস্থাটি তা সরবরাহ করতে পারবে কি না, পারলেও কত দিনে পারবে—সব কিছুই অনিশ্চিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ১৮ বছরের নিচের বয়সী কোনো শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া যাবে না। অথচ তারাই সংখ্যায় অনেক বেশি। ফলে এই শিক্ষার্থীরা খুবই নাজুক অবস্থায় থেকে যাবে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের বহন করা যানবাহন—সর্বত্রই কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তার উল্টোটা। রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, জনসমাগমের স্থানে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রায় কেউই মানছে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে।

করোনার এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য টিকাদান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। টিকার যেন সংকট না হয় সে জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সেরাম ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি চীন, রাশিয়াসহ অন্যান্য উৎস থেকে টিকা আমদানির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা