kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

আজ শুরু টিকাদান কর্মসূচি

দ্রুত সবার টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




আজ শুরু টিকাদান কর্মসূচি

করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্বে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ভ্যাকসিন বা টিকা। গত মাসে কিছু দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলেও বেশির ভাগ দেশ এখনো টিকা হাতে পায়নি। কবে পাবে তা-ও অনিশ্চিত। তার প্রধান কারণ বিশ্বব্যাপী যে ব্যাপক চাহিদা, তার তুলনায় টিকার উৎপাদন খুবই কম। সেদিক থেকে বাংলাদেশ খুবই ভাগ্যবান যে এরই মধ্যে ৭০ লাখ ডোজের বেশি টিকা হাতে চলে এসেছে। তার ভিত্তিতে আজ শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত টিকাদান কর্মসূচি। রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভার্চুয়ালি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম দিন ২৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হবে। পরদিন ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। তাঁদের সপ্তাহখানেক পর্যবেক্ষণ করা হবে। তারপর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সারা দেশে গণটিকাদান শুরু হবে।

টিকা প্রদান ও নাম নিবন্ধন সুশৃঙ্খল করার জন্য ‘সুরক্ষা’ নামে একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। অগ্রাধিকার অনুযায়ী আগ্রহী ব্যক্তিরা এর মাধ্যমে অনলাইনে নাম নিবন্ধন করতে পারবেন। শুধু সেই নিবন্ধনের ভিত্তিতেই টিকা দেওয়া হবে, তা নয়। অ্যাপসের মাধ্যমে যাঁরা নিবন্ধন করতে পারবেন না তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অ্যাপসে নিবন্ধন না করার পরও কেউ টিকাকেন্দ্রে গেলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তাঁদের সহায়তা করবেন। এ জন্য প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে পৃথক টিম কাজ করবে। অর্থাত্ কোভিডের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম সফল করতে সব ধরনের ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে টিকা নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচারও রয়েছে। বিরোধী কিছু রাজনৈতিক দলের মধ্য থেকে এক ধরনের অপপ্রচার রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে না বুঝেও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু গতকাল প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ৯টি খাতে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব অর্থ বিভাগ বাতিল করে দিয়েছে, যার মধ্যে প্রচার বা বিজ্ঞাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবও রয়েছে। প্রচার ছাড়া মানুষকে টিকাদানে উদ্বুদ্ধ করা যাবে কিভাবে? টিকা প্রদানের জন্য যে ৪২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মী প্রস্তুত করা হয়েছে, তাদের আপ্যায়ন বাবদ যে অর্থ চাওয়া হয়েছিল, তা-ও বাতিল করা হয়েছে। ডাটাবেইস তৈরির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সার্ভের জন্যও কোনো বরাদ্দ নেই। তাহলে টিকাদান কর্মসূচি এগোবে কিভাবে? অর্থ বিভাগ কেন এসব প্রস্তাব বাতিল করেছে, তার ব্যাখ্যা প্রদান জরুরি।

হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে টিকা কেনা হচ্ছে। তাই টিকাদান কর্মসূচি ও তার ব্যবস্থাপনা যথাযথ হওয়া প্রয়োজন। টিকা প্রদানের যোগ্য সব মানুষকে দ্রুততম সময়ে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় দেশ থেকে করোনা সংক্রমণ দূর করা যাবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা