kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

বাংলাদেশের মূলনীতি

এসব ছাড়া সামনে এগোনো সম্ভব নয়

১৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে কয়েকটি মৌলিক নীতির ভিত্তিতে; যেমন—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এগুলোই আমাদের রাষ্ট্রের মূলনীতি। মূলনীতি বাদ দিলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একটি রাষ্ট্রের জন্য এমনটি কাম্য হতে পারে না। রাষ্ট্রকে তার মূলনীতির পথেই হাঁটতে হয়। সেটা হলেই রাষ্ট্রের কল্যাণ নিশ্চিত হয়। দুর্ভাগ্যজনক বিষয়, পঁচাত্তর সালের মর্মান্তিক ঘটনার পর সামরিক শাসকরা রাষ্ট্রের মূলনীতিতে হাত দিয়েছিল। সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বদলে ফেলা হয়েছিল। জাতীয়তাবাদকে বিকৃত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে পরিণত করা হয়েছিল। আর এরশাদ যুক্ত করেছিলেন রাষ্ট্রধর্ম। রাষ্ট্রধর্ম থাকলে কি ধর্মনিরপেক্ষতা থাকে! এসব বদলের ঘটনার প্রতিফল আমরা দেখেছি। তাতে কি আমাদের কল্যাণ হয়েছে! এসবের পরিবর্তনকারীদের হাত ধরে দেশ কি সামনে এগিয়েছে! তার কোনো প্রমাণ আমরা কিন্তু দেখতে পাইনি। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বরং পিছিয়েছে।

এ বিষয়গুলোই অনুধাবন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তাঁর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উন্নয়ন এবং ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার—এগুলোর কোনোটিকে বাদ দিলে দেশ অগ্রসর হবে না।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে আমরা সরে আসতে পারি না।’ ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করতে গিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে জয় বলেন, ‘মহামারির পরও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বগুণে দেশ এখনো অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে রয়েছে। যেখানে উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা থমকে গেছে, সেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো পজিটিভ ধারায় রয়েছে।’ তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের প্রতিষ্ঠাকালীন মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে আমরা কিছুতেই সরে আসতে পারি না। আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন, আমরা সবাই বাঙালি।’

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মৌল নীতিগুলোর কথাই বলা হয়েছে। চার মূলনীতির অন্যতম ধর্মনিরপেক্ষতার কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে। কেননা বাংলাদেশের অস্তিত্ব এ নীতির বাইরে কল্পনা করা যায় না। এক শ্রেণির লোক বলে বেড়াত এবং এখনো বলে বেড়ায়, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা। ধর্মনিরপেক্ষতার এমন মানে কী করে সম্ভব—সেটা তারাই জানে এবং এই লোকগুলো কারা, কী তাদের বিশ্বাস, সে কথা সবার জানা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী লোক ছাড়া এমন কথা কেউ বলে না। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্যেই আছে ধর্মনিরপেক্ষতা। এ নীতির বিরোধিতা আসলে মূলনীতিগুলোরই কোনো না কোনো উপায়ে বিরোধিতা। এ বিরোধিতা শুভতার পরিচায়ক নয়। বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষতাসহ তার মূলনীতিগুলোর ওপরই দণ্ডায়মান থাকবে, এটা আমাদের বিশ্বাস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা