kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

সংসদ সদস্যের ছেলে জেলে

অপরাধ করলে সাজা পেতেই হবে

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের পুত্র ইরফান সেলিম ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে কারগারে পাঠানো হয়েছে। নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার পুরান ঢাকার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তাঁকে মদ্যপানের অভিযোগে এক বছর ও অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখার দায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ইরফানের দেহরক্ষীকেও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মারধরের ঘটনাটি ঘটে রবিবার সন্ধ্যার পরে রাজধানীর কলাবাগান ট্রাফিক সিগন্যালের কাছে। সেখানে ইরফানকে বহন করা জিপগাড়িটি নৌবাহিনী কর্মকর্তার মোটরসাইকেলকে  ধাক্কা দেয়। এ সময় কিছু কথা-কাটাকাটির পর ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো গাড়ি থেকে নেমে আরোহীরা নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে পিটিয়ে জখম করেন। এ সময় কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা তাঁর স্ত্রীর গায়েও হাত তোলা হয়। গাড়ির আরোহীদের মধ্যে ছিলেন হাজি সেলিমের ছেলে মোহাম্মদ ইরফান সেলিম, গাড়িচালক মিজানুর রহমান ও ইরফানের দেহরক্ষী জাহিদ। ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হলে গাড়ি ফেলে তাঁরা সটকে পড়েন। ইরফানসহ তিনজনকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়। লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খানকে মারধর করার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আছে। সেই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। পুলিশ জিপগাড়িটি জব্দ করেছে। রাতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর সোমবার সকালে ওয়াসিফ বাদী হয়ে ইরফান সেলিমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মারধরের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে। গ্রেপ্তার অভিযানটিও ছিল চাঞ্চল্যকর।

কলাবাগানে যে ঘটনাটি ঘটল সেটি নিছকই ক্ষমতা প্রদর্শন। গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে কারোরই, তিনি যদি ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে জড়িয়েও থাকেন, এ ধরনের আচরণ করার সুযোগ নেই। র‌্যাব-পুলিশ পরবর্তী সময়ে ইরফান সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে। বাড়িতে একটি টর্চার সেলেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। অনুমোদনহীন ৩৮টি ওয়াকিটকিসহ এমন কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে, যেগুলো বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার করা যায় না। একজন আইনপ্রণেতার সন্তানের বাড়িতে এমন বেআইনি কাজকর্ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো গাড়ির যেরূপ ব্যবহার হয়েছে তা-ও আমাদের হতবাক করেছে।

ক্ষমতার অপপ্রয়োগের এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে আমাদের দেশে। ক্ষমতাসংশ্লিষ্টরা নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য ভুলে ক্ষমতা প্রদর্শনেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অন্যায়কারী জনপ্রতিনিধি হলেও তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরাও তাই চাই। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা