kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

শুভ বিজয়া

সম্প্রীতির ধারায় শুভ শক্তির জয় হোক

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




শুভ বিজয়া

বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমুন্নত রাখার উত্কৃষ্ট উদাহরণ দুর্গোৎসব বাঙালির সাংস্কৃতিক মিলনসূত্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত। দেবী দুর্গা মানুষকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করে সত্য, শুভ ও ন্যায়ের পথ দেখিয়ে দেন। চিরন্তন দিশারি হয়ে মানবের কল্যাণে এবং অশুভের ওপর শুভর বিজয়কে নিশ্চিত করেন তিনি। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার প্রাক-সন্ধ্যায় অর্থাৎ শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে কাত্যায়নী মুনির কন্যারূপে মহিষাসুর বধের জন্য দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে।

দেবীপক্ষের শুরু হয় যে অমাবস্যায়, সেদিন হয় মহালয়া; সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মহালয়ার প্রাক-সন্ধ্যায় ‘কাত্যায়নী মুনির কন্যা’ রূপে মহিষাসুর বধের জন্য দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। কিন্তু পঞ্জিকার হিসাবে এবার আশ্বিন মাস ‘মলমাস’, মানে অশুভ মাস। সে কারণে ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়া হলেও দেবীর পূজা এবার হয়েছে কার্তিক মাসে। দেবী দুর্গা মর্তে পৌঁছেছেন মহালয়ার ৩৫ দিন পর। দেবীপক্ষের সমাপ্তি হয় কোজাগরি পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপূজার মধ্য দিয়ে। এর মধ্যে ষষ্ঠী থেকে দশমী, দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা এই পাঁচ দিন। নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে বাঙালির শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় বোধনের মাধ্যমে শুরু হয় ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার ঘুম ভাঙানোর পালা। আজ সোমবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের দুর্গোৎসব।

হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বর্গলোক কৈলাস ছেড়ে মর্তে আসেন দেবী দুর্গা। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নির্দিষ্ট তিথি পর্যন্ত বাবার বাড়িতে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। দেবীর অবস্থানকালে পাঁচ দিন পৃথিবীতে ভক্তরা দেবী মায়ের বন্দনা করে। এই বন্দনাকে কেন্দ্র করে দেশবাসী মেতে ওঠে উৎসব আনন্দে। করোনার কারণে এবার পূজার অনুষ্ঠানমালা শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্দির বা মণ্ডপ প্রাঙ্গণে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বছর দেবী দুর্গার আগমন দোলা বা পালকিতে। সপ্তমী যদি বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার হয় তাহলে দেবী দোলা বা পালকিতে আসবেন। ফল ‘দোলায়াং মকরং ভবেৎ’ অর্থাৎ মহামারি, ভূমিকম্প, খরা, যুদ্ধ ও অতিমৃত্যু লক্ষ করা যায়। দোলা বা পালকিতে সূচিত হয় ভয়ংকর মহামারি, যাতে বিপুল প্রাণহানি অনিবার্য। অন্যদিকে ২৬ অক্টোবর সোমবার পড়েছে বিজয়া দশমী। দেবী দুর্গা পুত্র-কন্যাসহ কৈলাসে ফিরবেন গজ অর্থাৎ হাতির পিঠে চেপে। গজে গমনের ফল শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা।

করোনা মহামারির মধ্যেও ষষ্ঠীর দিন থেকে দেশজুড়ে শুরু হওয়া উৎসবের আমেজ পরের দিনগুলোতেও বজায় ছিল। সারা দেশ ছিল উৎসবমুখর। নারী-শিশুসহ সব বয়সের মানুষের নির্বিঘ্ন ও নিঃশঙ্ক আনাগোনায় মুখর ছিল দেশের পূজামণ্ডপগুলো। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মানুষে মানুষে সব বিভেদ ও সংকীর্ণতা চিরতরে দূর হয়ে যাক। শক্তিশালী হোক মিলন ও সম্প্রীতির ধারা। সত্য, ন্যায় ও শুভ শক্তির জয় হোক। সবাইকে বিজয়ার শুভেচ্ছা, শুভ বিজয়া।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা