kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

চালকদের ডোপ টেস্ট

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানুন

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চালকদের ডোপ টেস্ট

সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন কতজন প্রাণ হারায় তার সঠিক পরিসংখ্যান কোথাও নেই। এমন কোনো দিন বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেদিন সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে না। এর মধ্যে এমন অনেক দুর্ঘটনা ঘটে, যেগুলোকে দুর্ঘটনা না বলে হত্যাকাণ্ডও বলা যায়। লাইসেন্সহীন অদক্ষ চালকের হাতে, এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়। বহু ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করে রাস্তায়, যেগুলোর নিয়ন্ত্রণে সমস্যা রয়েছে। অনেক চালক রাত-দিন গাড়ি চালায়। অত্যধিক ক্লান্তি এবং গাড়ি চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে যাওয়ার কারণেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। আবার বেপরোয়া গতি, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো, গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইল ফোনে কথা বলাসহ বহু অনিয়ম ঘটে রাস্তায়। এসব কারণে রাস্তায় মৃত্যুর মিছিল লেগেই আছে। এর সঙ্গে আছে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালক। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশ চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। আবার বৈধ লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে এমন চালকের ৩১ শতাংশ কোনো অনুমোদিত ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেনি। ফলে বেশির ভাগ চালকই ট্রাফিক আইন ভালো জানে না। সড়ক দুর্ঘটনার এটাও একটা বড় কারণ। রাজধানীসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের বেশির ভাগ চালক নকল লাইসেন্স বা ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। হালকা যানবাহনের চেয়ে ভারী পরিবহনের চালকদের লাইসেন্স সমস্যা গুরুতর। অবৈধ ও অদক্ষ চালক সড়কে নৈরাজ্য ও দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ, দুর্নীতি ও মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো বন্ধে চালকদের ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটলেই আইন হাতে তুলে নেওয়ার মানসিকতা পরিহার এবং সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এখানে উল্লেখ করা দরকার, গত বছর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মালিক-শ্রমিকদের এক সভায় গত ডিসেম্বর থেকেই চালকদের ডোপ টেস্ট করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক। বলা হয়েছিল, চালকরা মাদকাসক্ত কি না তা রাস্তায়ই পরীক্ষা করা হবে।

আমরা কোনো মতেই এমন অনিরাপদ সড়ক চাই না। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই হবে। চালকদের লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। দক্ষ ও যোগ্য চালক ছাড়া কারো হাতে লাইসেন্স তুলে দেওয়া যাবে না। গাড়ির ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো আপস করা যাবে না। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা