kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নতুন স্বাভাবিকতার ঝুঁকি

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করুন

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নতুন স্বাভাবিক ব্যবস্থায় জনচলাচল ও কর্মতৎপরতা বেড়েছে। গণপরিবহন চলছে। রাজধানী ঢাকা ফিরে এসেছে আগের চেহারায়। সাদা চোখে মনে হতে পারে দেশের মানুষের মন থেকে করোনাভাইরাসজনিত ভীতি দূর হয়েছে; কিন্তু আমরা একেবারে ঝুঁকিমুক্ত হয়েছি—এ কথা বলা যাবে না। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গত বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৫টি। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে তিন লাখ ৬৩ হাজার ৪৭৯ জন। যাদের মধ্যে মারা গেছে পাঁচ হাজার ২৫১ জন এবং সুস্থ হয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৭ জন। দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্তদের মধ্যে ৯৩ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের নিচে। মাত্র ৭ শতাংশের বয়স তার ওপরে। কিন্তু আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৫১ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। অর্থাৎ বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন কম, কিন্তু মারা যাচ্ছেন বেশি। দেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা দেখিয়েছি। দেশে নতুন রোগী শনাক্তের হার সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমে এলেও তাতে স্বস্তির কোনো সুযোগ নেই বলে তাঁদের অভিমত। এরই মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বা সেকেন্ড ওয়েভ আলোচনায় চলে এসেছে। ইউরোপের যে দেশগুলো কভিডের ধাক্কাটা মোটামুটি সামলে উঠেছিল, সেসব জায়গায় নতুন করে কভিডের নতুন রোগী শনাক্তের হার বাড়তে শুরু করেছে। ফলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানিতে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারি নিয়ে মানুষের ভয় অনেকাংশে কেটে গেলেও বাস্তবতা হচ্ছে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য করোনা ভয়ের ব্যাপারই রয়ে গেছে। তাঁদের মতে, তরুণদের মাধ্যমেই বয়স্করা সংক্রমিত হচ্ছেন বেশি। জীবন-জীবিকা বা যেকোনো কারণেই হোক তরুণরা বেশি ঘরের বাইরে যাচ্ছে, সে কারণে তারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আর সে কারণেই যারা বাইরে যাচ্ছেন, তাঁদের মাস্ক পরা, হাত ধোয়াসহ কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, যিনি বাইরে যাচ্ছেন, তার ওপর পরিবারের অন্যদের সুস্থ থাকা নির্ভর করছে। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সরকারকেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় কভিড প্রতিরোধ সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।

মন্তব্য