kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রযুক্তিনির্ভর জনশক্তি গড়ে তোলা

শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদারি জরুরি

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রযুক্তিনির্ভর জনশক্তি গড়ে তোলা

প্রযুক্তি, বিশেষ করে তথ্য-প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই আজ অটোমেশনের ছোঁয়া লেগেছে। এতে কাজের গতি বেড়েছে। একটি প্রযুক্তিনির্ভর জনশক্তিও দ্রুত গড়ে উঠছে। দেশে নতুন নতুন টেক পার্ক গড়ে উঠছে। আর সেসবের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যেও। যন্ত্র বা প্রযুক্তি যখন মানুষের বিকল্প হয়, তখন কাজের ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা কমে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে তৃতীয় বিশ্বের, বিশেষ করে স্বল্পপুঁজির রাষ্ট্রগুলোর চ্যালেঞ্জ অনেক বেড়ে যাবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই বিপ্লবের ফলে উন্নয়নশীল বিশ্বের জনশক্তির একটি বড় অংশ কর্মহীন হয়ে পড়বে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হবে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ জনশক্তিসম্পন্ন রাষ্ট্রের জন্য বিশাল সম্ভাবনা। অন্যদিকে স্বল্পপুঁজির রাষ্ট্রগুলোও দক্ষতার মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়েই আলোকপাত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশন উপলক্ষে একটি উচ্চতর সাইড ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চান। আর তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে উদীয়মান চাকরির বাজার বিবেচনা করে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল একাডেমি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদারির প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে সংস্থাটির সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল কো-অপারেশন : অ্যাকশন টুডে ফর ফিউচার জেনারেশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রচারিত ভিডিও বক্তব্যে ২০২১ সাল নাগাদ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে ডিজিটাইজেশনের জন্য সরকারের উদ্যোগের ফলে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণের দিক দিয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৩৪ লাখের ওপর। আমাদের ডিজিটাইজেশন আমাদের জনগণকে ‘চেঞ্জ মেকারের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে বিশাল সুযোগ করে দিয়েছে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে জনগণকে কী কী দক্ষতা অর্জন করানো প্রয়োজন, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকেই আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব উপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করতে হলে পাঠ্য বইকেন্দ্রিক শিক্ষাক্রম চিন্তা থেকে বের হয়ে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশে অগ্রগতির যে ধারা সূচিত হয়েছে, তা আরো এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়াতে হবে। এমডিজিতে বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নে গুরুত্ব অনুযায়ী প্রকল্প নিতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি ও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে, যাতে তারা এসডিজি বাস্তবায়নে সক্ষম হয়।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতেই নির্ভর করছে বাংলাদেশের আগামী দিনগুলো। সেই লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিনির্ভর জনশক্তি গড়ে তুলতে আমাদের কাজ করতে হবে। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার সব ব্যবস্থা নেবে, উন্নত বিশ্ব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে, দূর হবে বৈষম্য—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য