kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সেশনজটের আশঙ্কা

বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে এখনই ভাবুন

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ যেকোনো দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি। শিক্ষা মানসম্মত না হলে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। দেশের উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং বা বৈশ্বিক মান বিচারে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় মাস ধরে কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা হয়নি। আবাসিক হলগুলো বন্ধ রয়েছে। অনলাইনে ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের কিছুটা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অনেক শিক্ষার্থী থেকে গেছে এর আওতার বাইরে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরই একই অবস্থা। এ বছরের শুরুর দিকে কিছু ক্লাস হলেও মাঝামাঝিতে কোনো ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। কিছু বিভাগে সেমিস্টার শেষ করতে দু-একটি পরীক্ষা বাকি রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অবশিষ্ট সময়ে বাড়তি ক্লাস, সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে ক্লাস ও শিক্ষাবর্ষের সময় কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করতে গিয়েও সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কারণ অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য নতুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সহজেই ক্লাস নিয়ন্ত্রণ এবং একই সঙ্গে সব শিক্ষার্থীর কাজ মূল্যায়ন করতে পারেন। শ্রেণিকক্ষে একজন শিক্ষক কম মনোযোগী শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ক্লাসে আকৃষ্ট করতে পারেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রশ্নের কোনো জটিলতা ছাড়াই সহজে উত্তর দেওয়া যায়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি কথোপকথনের অভাবে অনলাইন ক্লাস প্রাণবন্ত হয় না। আর সে কারণেই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অপেক্ষা করতে হবে, কবে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে, সেই দিনটির জন্য।

করোনা দুর্যোগে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট দেখা দিলে তা উচ্চশিক্ষারত শিক্ষার্থীদের কর্মজগতে প্রবেশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেশনজট দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাই  বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিতে হবে। করোনা দুর্যোগে সব স্তরের শিক্ষার্থীরাই ক্ষতির মুখে পড়েছে। আবার অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ ও সামর্থ্য অনেক শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকের নেই। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর কার্যকর পদ্ধতি কী হবে তা এখনই ভেবে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে দিনে ও রাতে দুই শিফট চালুর পাশাপাশি সেশনজট কমাতে ঐচ্ছিক ও সাপ্তাহিক ছুটি সাময়িকভাবে বন্ধের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা