kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

চাঙ্গা হচ্ছে পুঁজিবাজার

আস্থার সংকট কাটাতে হবে

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



২০১০ সালে দেশের পুঁজিবাজারে ধস নেমেছিল। এরপর আর স্থায়ী চাঙ্গাভাব আসেনি। বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট কাটাতে বেশ কিছু সংস্কার হয়েছে। তার প্রভাব পুঁজিবাজারে কতটা পড়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আস্থার সংকট একবার তৈরি হয়ে গেলে তা সহজে কাটে না। কিছুটা আশার আলো সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গত রবিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বেড়েছে ৮২ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৩২৯ কোটি ৭২ লাখ টাকার। ডিএসইতে বাজার মূলধন বেড়েছে পাঁচ হাজার ৭১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট কাটছে না কেন? বিশ্লেষকদের অভিমত, খুব কম কম্পানিই এখানে সদুদ্দেশ্যে শেয়ার বিক্রি করেছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক শেয়ার বা আইপিও অতি মূল্যায়িত করে বিক্রি করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সেকেন্ডারি মার্কেটে জুয়াড়ি ভাড়া করে বাজারমূল্য বাড়িয়েছে—এমন অভিযোগও আছে। শেয়ার অতি মূল্যায়িত করে অনেক প্রতিষ্ঠান বাজার থেকে টাকা তুলে নিয়ে গেছে বলেও শোনা যায়। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের একটি বড় নেতিবাচক দিক হচ্ছে, অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। আবার পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত স্থানীয় কম্পানিগুলোও তাদের ক্যাপিটাল বেইস বা মূলধনের আকার বাড়াতে খুব একটা আগ্রহী বলে মনে হয় না।

অন্যদিকে সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানও বাজারে শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছে। ২০০৯ সালে ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয় সরকার। পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালের ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় ২১টি কম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে শেয়ার ছাড়তে বলা হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দফায় শেয়ার ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দু-একটি কম্পানি ছাড়া কোনোটিই সাড়া দেয়নি। সরকারের পরিকল্পনায় সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকের শেয়ার ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে অফলোড করার কথা। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গত ছয় মাসে শুধু রূপালী ব্যাংকের ১৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনতা ব্যাংকের শেয়ার অফলোডের বিষয়ে পর্ষদে এখন পর্যন্ত আলোচনাই হয়নি। অগ্রণী ব্যাংকের শেয়ার অফলোডের বিষয়ে পর্ষদ সভায় স্মারক উপস্থাপন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানির শেয়ার বাজারে এলে বিনিয়োগকারীরাও বাজারে ফিরবে। তবে সবার আগে কাটাতে হবে আস্থার সংকট।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা