kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

অদৃশ্য প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা

সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অদৃশ্য প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা

কাজির গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই—এই বাংলা প্রবচনটির প্রকৃষ্ট উদাহরণ ঢাকা শিশু হাসপাতালের স্টেমসেল থেরাপি ইউনিট। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ এই ইউনিটটি স্থাপনে কাগজে-কলমে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ঢাকা শিশু হাসপাতাল যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। সব ব্যয় সম্পন্ন হলেও ইউনিটটি এখনো অদৃশ্য। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হাসপাতালের কর্মচারীরাও জানেন না কোথায় সেই ইউনিটটি। একপর্যায়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সার্জারি বিভাগের একজন চিকিৎসক প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি শুনেছি, সার্জারি বিভাগের ভেতরে এ ধরনের একটি ইউনিট করার কথা ছিল। চারটি যন্ত্রের মধ্যে নাকি একটি যন্ত্র এসেছে।’ যে বিভাগে এই ইউনিট করার কথা সে বিভাগের চিকিৎসকই যদি না জানেন, তাহলে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির অস্তিত্ব কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে? আর এ দেশের শিশুরা ২৫ কোটি টাকায় নির্মিত স্টেমসেল ইউনিটের চিকিৎসাসেবা থেকে কেন বঞ্চিত হচ্ছে?

‘ঢাকা শিশু হাসপাতালের অ্যাডভান্সড শিশু সার্জারি অ্যান্ড স্টেমসেল থেরাপি ইউনিট স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটির কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প পরিচালক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হেলালউদ্দিন ভূঁইয়া বলেছেন, ‘প্রকল্পের কাজ গত বছরই শেষ হয়ে গেছে। কেনাকাটার বিলও পরিশোধ করা হয়েছে।’ প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুদ্রণ ও প্রকাশনা বাবদ ২০ লাখ, প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাবদ ২৫ লাখ, বিদেশে প্রশিক্ষণ বাবদ দুই কোটি ২০ লাখ, এমএসআর বাবদ এক কোটি ৪০ লাখ, গবেষণা বাবদ ৫০ লাখ, বুকস অ্যান্ড পিরিয়ডিক্যালস বাবদ ৫০ লাখ, সম্মানী ভাতা আট লাখ, আসবাব মেরামত বাবদ দুই লাখ, কম্পিউটার মেরামত বাবদ এক লাখ, অফিস ইক্যুইপমেন্ট ও যন্ত্রপাতি মেরামত বাবদ পাঁচ লাখ, চার সেট যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনা বাবদ ১৭ কোটি ৮০ লাখ, ২৭ সেট আসবাব বাবদ তিন লাখ, অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো (দুটি রিফার্বিশমেন্ট) ৪০ লাখ, সিডি ভ্যাট বাবদ ৬০ লাখ, প্রাইস কন্টিজেন্সি বাবদ ৪০ লাখ ও অন্যান্য বাবদ পাঁচ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এত বিশাল আয়োজন লোকচক্ষুর আড়ালে কোথায় কিভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা সত্যিই এক বড় রহস্য। প্রায় ১৮ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ফেলে রেখে ওয়ারেন্টি পিরিয়ড পার করা হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও এসবের দায়দায়িত্ব নেবে না। সেই ক্ষতিটা কার হবে?

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় স্টেমসেল চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন। সরকার সে জন্য বরাদ্দও দিয়েছে। কিন্তু সেই বরাদ্দের এমন অপব্যবহার কেন? তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, দ্রুত এই ইউনিট কার্যক্রম শুরু করুক এবং দেশের শিশুরা তার সুফল পাক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা