kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

বাড়ছে পোশাক রপ্তানি

ধরে রাখতে হবে এই ইতিবাচক ধারা

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়ছে পোশাক রপ্তানি

করোনা মহামারি শুধু ব্যাপক প্রাণহানিরই কারণ হয়নি, বিশ্ব অর্থনীতিতেও নিয়ে এসেছিল এক বিপর্যয়কর অবস্থা। দীর্ঘস্থায়ী লকডাউনের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি। অর্থনৈতিক মন্দা কাবু করে ফেলেছিল উন্নত দেশগুলোকেও। এসব কারণে ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানি। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে জনজীবন আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শিল্প-কারখানা, অফিস-আদালতের পাশাপাশি খুলে যাচ্ছে মার্কেট ও শপিং মল। ক্রেতারা পুনরায় কেনাকাটা শুরু করেছে। ফলে বাড়ছে পোশাকের চাহিদা। আর তারই ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানিও অনেক বেড়েছে। গত এপ্রিল-মে মাসে পোশাকের রপ্তানি যেখানে কমে এসেছিল প্রায় ৮৫ শতাংশ, সেখানে জুলাই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। জানা গেছে, মহামারির কারণে যেসব ক্রয় আদেশ স্থগিত বা বাতিল হয়ে গিয়েছিল সেগুলোও আবার ফিরতে শুরু করেছে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে পুনরায় স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে।

করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ সারা দুনিয়ায় এখনো এক আতঙ্কের নাম। এর সঙ্গে যুদ্ধ করার মতো কার্যকর অস্ত্র এখনো মানুষের হাতে আসেনি। করোনা মহামারিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে দেশটিতে দেড় লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে, আক্রান্ত হয়েছে ৫০ লাখেরও বেশি। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে যায়। ব্যবসায়ীরাও পোশাক আমদানি কমিয়ে দেয়। অথচ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। স্বাভাবিকভাবেই এখানে চাহিদার বড় রকম হেরফের হলে তা বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। প্রায় একই ধরনের অবস্থা ছিল ইউরোপীয় ক্রেতা দেশগুলোতেও। সেখানেও পরিস্থিতি ক্রমেই স্বাভাবিক হচ্ছে। আমদানিকারকরা পুনরায় ক্রয় আদেশ দিতে শুরু করেছে। আর এসব কারণেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমে গিয়েছিল। ২০১৮ সালে এসে আবার এই বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৫৯৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। উদ্যোক্তারা জানান, ২০১৮ সালে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। আমদানিকারকরা ক্রমে বেশি করে ঝুঁকতে থাকে বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সেই ধারায় বড় ধরনের ছেদ পড়েছিল। তারই প্রতিফলন দেখা যায় ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) দেওয়া পরিসংখ্যানে। তাতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) মাত্র ২৪৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এটি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯.৭৩ শতাংশ কম।

সম্প্রতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাজারে যে ইতিবাচক ধারার সূচনা হয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে এবং তাকে উত্তরোত্তর আরো এগিয়ে নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা